কখনো কি আপনি কোনো মৃতদেহের গন্ধ পেয়েছেন? র্যান্ডল গাম্বোয়া এস্কিভেলের পরিবারের জন্য এই প্রশ্নটি কোনো অনুমান নয়, বরং এক মর্মান্তিক বাস্তবতা। গাম্বোয়া, যিনি কোস্টারিকার নাগরিক, যুক্তরাষ্ট্রে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পরে তাকে যখন ভেজিটেটিভ অবস্থায় ফেরত পাঠানো হয়, এর কিছুদিন পরেই তিনি মারা যান। তার পরিবার এই ঘটনার উত্তর জানতে চাইছে। তাদের অভিযোগ, ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE)-এর হেফাজতে থাকাকালীন গাম্বোয়ার স্বাস্থ্যের দ্রুত অবনতি ঘটে, এবং তারা এর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা দাবি করছে।
র্যান্ডল গাম্বোয়া এস্কিভেলের গল্পটি শুরু হয়েছিল আশা দিয়ে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে, তিনি কোস্টারিকা থেকে একজন সুস্থ মানুষ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন, যেখানে তিনি ভালো সুযোগের সন্ধান করছিলেন। মেক্সিকো সীমান্ত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করে তিনি নতুন করে জীবন শুরু করতে চেয়েছিলেন। গাম্বোয়া এর আগে ২০০২ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে বসবাস করেছিলেন। তবে, দ্বিতীয়বার যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টাকালে মার্কিন কর্তৃপক্ষ তাকে অবৈধভাবে প্রবেশের অভিযোগে আটক করে।
গাম্বোয়াকে প্রথমে লারেডোর ওয়েব কাউন্টি ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হয়েছিল, পরে তাকে সাউথ টেক্সাসের লস ফ্রেসনোসের পোর্ট ইসাবেল ডিটেনশন সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়। এই দুটি স্থানে প্রায় দশ মাস তিনি কী পরিস্থিতির মধ্যে ছিলেন, তা এখনও রহস্যে ঘেরা, এবং তার পরিবার সেই রহস্য উদঘাটনে বদ্ধপরিকর।
পরিবারের উদ্বেগের মূল কারণ হলো, ICE-এর হেফাজতে ঢোকার আগের মানুষটি এবং ফেরত আসা মানুষটির মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য। পরিবারের ভাষ্যমতে, সীমান্ত পার হওয়ার সময় গাম্বোয়া সুস্থ ছিলেন। কিন্তু যখন তাকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ফেরত পাঠানো হয়, তখন তিনি ছিলেন ভেজিটেটিভ অবস্থায়, কথা বলতে বা নিজের খেয়াল রাখতে অক্ষম। পরিবারের বিশ্বাস, আটকের পরিস্থিতি এবং তার পাওয়া চিকিৎসাসেবা, বা বলা ভালো সেবার অভাব, তার দ্রুত পতনের কারণ।
এই ঘটনাটি ICE-এর অধীনে থাকা বন্দিদের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগকে তুলে ধরে। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সাহায্যকারী সংস্থা অপর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা, চিকিৎসায় বিলম্ব এবং স্বচ্ছতার অভাবের জন্য সংস্থাটির সমালোচনা করে আসছে। প্রায়ই শোনা যায়, সামান্য চিকিৎসায় সেরে যায় এমন রোগে আক্রান্ত বন্দিদেরও অবহেলার কারণে অবস্থার অবনতি ঘটে। তবে গাম্বোয়ার ঘটনাটি বিশেষভাবে উদ্বেগজনক, কারণ তাকে ফেরত পাঠানোর সময় তার অবস্থা ছিল খুবই গুরুতর।
"পরিবারটি বিধ্বস্ত এবং তারা এর উত্তর চায়," টোডোস পর কোস্টারিকা নামক একটি সংগঠনের প্রতিনিধি বলেন, যারা পরিবারটিকে সহায়তা করছে। "তারা জানতে চায় র্যান্ডলের সাথে সেই দশ মাসে কী ঘটেছিল। কী ধরনের চিকিৎসা তিনি পেয়েছিলেন? কেন তাকে এমন অবস্থায় ফেরত পাঠানো হয়েছিল? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর ICE-কে দিতে হবে।"
গাম্বোয়ার ঘটনাটি গুরুতর অসুস্থ ব্যক্তিদের ফেরত পাঠানোর নৈতিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলে। ভেজিটেটিভ অবস্থায় থাকা কোনো ব্যক্তি, যিনি নিজের হয়ে কথা বলতে বা কোনো সিদ্ধান্ত নিতে অক্ষম, তাকে কি ফেরত পাঠানো উচিত? আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন এবং মানবিক আচরণের নীতির লঙ্ঘন হতে পারে।
ভবিষ্যতে গাম্বোয়ার ঘটনা ICE-এর আটক নীতি এবং চিকিৎসা প্রোটোকলের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। এটি ডিটেনশন সেন্টারগুলোতে দেওয়া স্বাস্থ্যসেবার ওপর আরও বেশি নজরদারি বাড়াতে পারে এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানাতে পারে। উপরন্তু, এটি দুর্বল বন্দিদের প্রতি অভিবাসন কর্তৃপক্ষের নৈতিক দায়িত্ব নিয়ে চলমান বিতর্ককে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। পরিবারের উত্তরের সন্ধান হয়তো র্যান্ডলকে ফিরিয়ে আনতে পারবে না, তবে ভবিষ্যতে এটি হয়তো এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা প্রতিরোধ করতে পারে এবং অন্যদের প্রতি সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে পারে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment