মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিউবাকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করার জন্য সতর্ক করেছেন, তিনি বলেছেন ভেনেজুয়েলার তেল বা অর্থ আর দ্বীপরাষ্ট্রে যাবে না। ট্রাম্পের ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে পোস্ট করা এই বিবৃতিটি ভেনেজুয়েলার উপর যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর তেল অবরোধ এবং ৩ জানুয়ারি মার্কিন বাহিনী কর্তৃক ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে সম্প্রতি অপহরণের মধ্যে কিউবার উপর চাপ আরও বাড়িয়েছে।
"কিউবায় আর কোনো তেল বা টাকা যাবে না, জিরো! আমি দৃঢ়ভাবে পরামর্শ দিচ্ছি, খুব দেরি হওয়ার আগেই তারা যেন একটা চুক্তি করে নেয়," ট্রাম্প লিখেছেন।
ঐতিহাসিকভাবে ভেনেজুয়েলা কিউবার প্রধান তেল সরবরাহকারী দেশ, তবে শিপিংয়ের ডেটা বলছে মাদুরোকে অপহরণের পর থেকে ভেনেজুয়েলার বন্দর থেকে কিউবার উদ্দেশ্যে কোনো পণ্যবাহী জাহাজ ছাড়েনি। এই ব্যাঘাত, যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কিউবার জ্বালানি সম্পদ এবং অর্থনীতির উপর উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি করেছে।
১৯৫৯ সালে কিউবার বিপ্লবের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার মধ্যে সম্পর্ক উত্তেজনাপূর্ণ, যার ফলশ্রুতিতে ফিদেল কাস্ত্রোর অধীনে একটি কমিউনিস্ট সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৬২ সালে যুক্তরাষ্ট্র কিউবার উপর বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, যা মাঝে মাঝে শিথিল করা সত্ত্বেও এখনও বহাল আছে। ট্রাম্প প্রশাসন ধারাবাহিকভাবে কিউবার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে, ওবামা-যুগের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার কিছু প্রচেষ্টা বাতিল করেছে।
ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে বর্তমান পরিস্থিতি উন্মোচিত হচ্ছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে সরানোর জন্য সক্রিয়ভাবে জড়িত। যুক্তরাষ্ট্র মাদুরোর বিরুদ্ধে দুর্নীতি, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং গণতন্ত্রকে দুর্বল করার অভিযোগ করেছে। মাদুরোকে অপহরণের ঘটনা বেশ কয়েকটি ল্যাটিন আমেরিকার দেশ নিন্দা করেছে, যারা এটিকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্বের উপর হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার মধ্যে চুক্তির সম্ভাবনা এখনও অনিশ্চিত। কিউবার সরকার বারবার যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের অভিযোগ করেছে। যেকোনো আলোচনায় সম্ভবত উভয় পক্ষকে গুরুত্বপূর্ণ ছাড় দিতে হবে, এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে একটি অগ্রগতি হওয়ার সম্ভাবনা কম। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে, কারণ এই পরিস্থিতির আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং আমেরিকার ক্ষমতার ভারসাম্যের উপর প্রভাব রয়েছে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment