মুডি'স অ্যানালিটিক্স-এর প্রধান অর্থনীতিবিদ মার্ক জ্যান্ডির মতে, ট্রাম্প-যুগের শুল্কের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের রায় স্থবির চাকরির বাজারে একটি ঝাঁকুনি দিতে পারে। সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে করা একটি পোস্টে জ্যান্ডি কর্মসংস্থানের উপর চাপ কমাতে এবং প্রবৃদ্ধি বাড়াতে আদালতের আসন্ন শুল্ক বিষয়ক সিদ্ধান্তের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।
অর্থনীতিবিদের এই মন্তব্য হতাশাজনক ডিসেম্বরের চাকরির প্রতিবেদনের পর এসেছে, যেখানে দেখা গেছে বেতনের ভিত্তিতে কর্মীর সংখ্যা সামান্য বেড়ে ৫০,০০০ হয়েছে এবং বেকারত্বের হার ৪.৪%। পুরো ২০২৫ সালে মাত্র ৫,৮৪,০০০ নতুন চাকরি তৈরি হয়েছে, যা ২০২৪ সালে তৈরি হওয়া ২০ লক্ষ চাকরির থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে কম এবং ২০০০-এর দশকের শুরু থেকে মন্দা বাদ দিলে সবচেয়ে দুর্বল চিত্র। জ্যান্ডি উল্লেখ করেছেন যে, এপ্রিল মাসে "লিবারেশন ডে" শুল্ক চালুর পর থেকে শ্রমবাজার কার্যত স্থবির হয়ে গেছে, যেখানে সম্ভাব্য সংশোধনীর ফলে সম্ভবত নিট চাকরির সংখ্যা হ্রাসের চিত্র দেখা যেতে পারে।
জ্যান্ডি এই মন্দার কারণ হিসেবে মূলত উৎপাদন, পরিবহন, বিতরণ এবং কৃষির মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে শুল্কের সরাসরি প্রভাবকে দায়ী করেছেন, যেগুলোর প্রতিটিতেই কর্মী ছাঁটাই হচ্ছে। এছাড়াও তিনি অধিকাংশ ব্যবসায় নিয়োগ সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তার পরোক্ষ প্রভাবের কথাও উল্লেখ করেছেন। বাণিজ্য-সংলগ্ন শিল্পগুলো বিশেষভাবে গত বছর যথেষ্ট ক্ষতির শিকার হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, উৎপাদন খাতে ৭০,০০০ কর্মী ছাঁটাই হয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসন কর্তৃক প্রাথমিকভাবে আরোপিত এই শুল্কগুলোর লক্ষ্য ছিল দেশীয় শিল্পগুলোকে সুরক্ষা দেওয়া এবং বাণিজ্য ঘাটতি কমানো। তবে সমালোচকদের মতে, এর ফলে ব্যবসায় এবং ভোক্তাদের জন্য খরচ বেড়েছে, সরবরাহ chain-এ ব্যাঘাত ঘটেছে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ব্যাহত হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্ত মার্কিন বাণিজ্য নীতি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। শুল্কের বিরুদ্ধে রায় এলে তা চাকরির বাজারে একটি প্রয়োজনীয় উৎসাহ যোগাতে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধারে সাহায্য করতে পারে, অন্যদিকে বহাল রাখলে তা বর্তমান স্থবিরতাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment