মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিউবাকে "একটা চুক্তি করার" আহ্বান জানিয়েছেন, কারণ দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর হচ্ছে। রবিবার ট্রাম্প তাঁর Truth Social-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে কিউবা যদি যুক্তরাষ্ট্রের কথা না শোনে, তাহলে তার পরিণতি ভালো হবে না বলে সতর্ক করেছেন। বিশেষ করে ভেনেজুয়েলার তেল এবং আর্থিক সহায়তা কিউবার দিকে আসা বন্ধ করার কথা বলেছেন।
ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন যে ভেনেজুয়েলা, কিউবার দীর্ঘদিনের মিত্র, আগের মতো সমর্থন দিতে পারবে না। তিনি লিখেছেন, "কিউবায় আর কোনো তেল বা টাকা যাবে না - জিরো! আমি তাদের জোরালোভাবে একটা চুক্তি করার পরামর্শ দিচ্ছি, আমার কিছু করার আগেই..."। বছরের পর বছর ধরে, কিউবা ভেনেজুয়েলার সরকারকে নিরাপত্তা পরিষেবা দেওয়ার বিনিময়ে প্রতিদিন প্রায় ৩৫,০০০ ব্যারেল তেল পেত বলে খবর।
কিউবার সরকার ট্রাম্পের মন্তব্যের কড়া ভাষায় জবাব দিয়েছে। কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী "হস্তক্ষেপ ছাড়াই" জ্বালানি আমদানির জাতির অধিকারের কথা বলেছেন, যেখানে কিউবার প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেছেন, "আমরা কী করব, তা কেউ ঠিক করে দিতে পারে না।"
ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলা ও কিউবার মধ্যে সম্পর্ক নষ্ট করার জন্য সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। তাদের প্রধান কৌশল হলো ভেনেজুয়েলার তেল ট্যাঙ্কারগুলো আটক করা, যেগুলোতে কিউবায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া তেল পরিবহন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। গত শুক্রবার মার্কিন কর্তৃপক্ষ এ রকম পঞ্চম তেল ট্যাঙ্কারটি আটক করেছে, যা কিউবার জ্বালানি ও বিদ্যুতের সংকটকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতি বোঝার জন্য যুক্তরাষ্ট্র-কিউবার সম্পর্কের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট জানা জরুরি। ১৯৫৯ সালে কিউবার বিপ্লবের পর, যুক্তরাষ্ট্র কিউবার উপর একটি ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, যা আজও বহাল আছে। এই নিষেধাজ্ঞার কারণে কিউবার অর্থনীতি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ করার ক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভেনেজুয়েলার সঙ্গে কিউবার মিত্রতা, বিশেষ করে হুগো শ্যাভেজের রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন, ভর্তুকিযুক্ত তেল ও অর্থনৈতিক সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে একটি গুরুত্বপূর্ণ জীবনরেখা তৈরি করেছিল।
ভেনেজুয়েলার নিজস্ব রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট এবং যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান চাপের কারণে কিউবাকে সমর্থন করার ক্ষমতা দুর্বল হয়ে গেছে। ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ, যার মধ্যে জানুয়ারী মাসের ৩ তারিখে কারাকাসে নিকোলাস মাদুরোর উপর হামলা, পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্র বিরোধী নেতা হুয়ান গুয়াইডোকে ভেনেজুয়েলার বৈধ রাষ্ট্রপতি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, যা আঞ্চলিক রাজনীতিতে জটিলতার আরেকটি স্তর যোগ করেছে।
বর্তমান পরিস্থিতি লাতিন আমেরিকায় প্রভাব বিস্তারের জন্য একটি বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের প্রতিফলন। যুক্তরাষ্ট্র ঐতিহাসিকভাবে কিউবার কমিউনিস্ট সরকারকে সন্দেহের চোখে দেখে, যেখানে কিউবা যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখেও তার সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা বজায় রাখার চেষ্টা করেছে। যুক্তরাষ্ট্র-কিউবার সম্পর্কের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত, তবে ট্রাম্পের সর্বশেষ বিবৃতি থেকে বোঝা যায় যে সংঘাত ও অর্থনৈতিক চাপের নীতি অব্যাহত থাকবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে, কারণ এর ফলাফলের ওপর আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও কিউবার জনগণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment