প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রবিবার কিউবাকে "একটা চুক্তি করতে" অথবা সুনির্দিষ্ট নয় এমন পরিণতির জন্য প্রস্তুত থাকতে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, ভেনেজুয়েলার তেল এবং অর্থ কিউবার দিকে আসা বন্ধ হয়ে যাবে, কারণ ভেনেজুয়েলার নিকোলাস মাদুরোর শাসনের পতন আসন্ন। ট্রাম্পের এই বিবৃতিটি তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে পোস্ট করা হয়েছে, যা কিউবার উপর চাপ বাড়িয়েছে। কিউবা ভেনেজুয়েলার দীর্ঘদিনের মিত্র এবং ভেনেজুয়েলার তেল রপ্তানির একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রহণকারী দেশ। ট্রাম্প লিখেছেন, "কিউবায় আর কোনো তেল বা অর্থ যাবে না, জিরো!" তিনি আরও যোগ করেছেন, "আমি দৃঢ়ভাবে পরামর্শ দিচ্ছি তারা যেন একটা চুক্তি করে নেয়, খুব দেরি হওয়ার আগেই।"
মার্কিন প্রেসিডেন্ট প্রস্তাবিত "চুক্তি" সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু বলেননি। তার এই বিবৃতিটি এমন সময়ে এসেছে যখন মাদুরোর ক্ষমতা থেকে সম্ভাব্য অপসারণের পরে কিউবা সম্ভাব্য অস্থিরতার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ভেনেজুয়েলা কিউবার প্রধান তেল সরবরাহকারী দেশ, কিন্তু মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে এই চালান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। প্রতিবেদনের अनुसार, শিপিং ডেটা নির্দেশ করে যে মাদুরোর গত সপ্তাহের গ্রেপ্তারের পর থেকে ভেনেজুয়েলার বন্দর থেকে কিউবার জন্য কোনো পণ্যবাহী জাহাজ ছেড়ে যায়নি।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং কিউবার মধ্যে সম্পর্ক ১৯৫৯ সালের কিউবার বিপ্লবের পর থেকে উত্তেজনাকর, যার ফলে ফিদেল কাস্ত্রোর অধীনে একটি কমিউনিস্ট রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১৯৬২ সালে কিউবার উপর একটি বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, যা আজও বহাল আছে। যদিও প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ২০১৫ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধারসহ সম্পর্কের উন্নতি শুরু করেছিলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই নীতিগুলির অনেকগুলি বাতিল করে বাণিজ্য এবং ভ্রমণের উপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেন।
কিউবার অর্থনীতির জন্য ভেনেজুয়েলার তেলের উপর নির্ভরতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখে। হুগো শ্যাভেজ এবং পরবর্তীতে নিকোলাস মাদুরোর অধীনে ভেনেজুয়েলা কিউবার ডাক্তার এবং অন্যান্য পেশাদারদের বিনিময়ে বিশেষ সুবিধাজনক মূল্যে তেল সরবরাহ করত। এই ব্যবস্থা কিউবার অর্থনীতির জন্য একটি জীবনরেখা, যা সংকট এবং অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের সাথে লড়াই করছে।
ভেনেজুয়েলার সমর্থন হারানোর সম্ভাবনা কিউবার জন্য উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে, যা বিদ্যমান অর্থনৈতিক অসুবিধাগুলিকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসন ধারাবাহিকভাবে মাদুরোর সরকারের প্রতি কিউবার সমর্থনকে এই অঞ্চলের একটি অস্থিতিশীল শক্তি হিসেবে দেখে সমালোচনা করেছে।
কিউবার সরকার এখনও ট্রাম্পের বিবৃতির কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। মার্কিন-কিউবা সম্পর্কের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত রয়ে গেছে, যা ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতির ওপর এবং উভয় দেশের আলোচনার ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে, অনেক দেশ ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার মধ্যে একটি গঠনমূলক সংলাপের আহ্বান জানিয়েছে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment