মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার নাগরিকদের অবিলম্বে দেশটি ত্যাগ করার জন্য আহ্বান জানিয়েছে। কারণ, খবর পাওয়া গেছে যে সশস্ত্র আধাসামরিক বাহিনী মার্কিন নাগরিকদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে। শনিবার দেশটির পররাষ্ট্র দফতর একটি নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারপন্থী মিলিশিয়া, যা "কালেক্টিভোস" নামে পরিচিত, তাদের সশস্ত্র সদস্যরা রাস্তা অবরোধ করছে এবং মার্কিন নাগরিকত্বের প্রমাণ বা সমর্থনের জন্য যানবাহন তল্লাশি করছে।
সতর্কবার্তায় ভেনেজুয়েলায় থাকা মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক থাকার এবং সড়কপথে ভ্রমণের সময় সাবধানতা অবলম্বন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এটি বিশেষভাবে তাদের অবিলম্বে দেশ ছাড়ার জন্য অনুরোধ করেছে এবং ভেনেজুয়েলা থেকে কিছু আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পুনরায় শুরু হওয়ার কথা উল্লেখ করেছে।
এই সতর্কতাটি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর কথিত আটকের এক সপ্তাহ পরে এলো। স্টেট ডিপার্টমেন্টের সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়নি যে মাদুরোকে কে বা কারা ধরে রেখেছে বা মার্কিন নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করার পেছনের উদ্দেশ্য কী।
"কালেক্টিভোস" শব্দটি সশস্ত্র, সরকারপন্থী বেসামরিক গোষ্ঠীগুলোকে বোঝায়, যারা বহু বছর ধরে ভেনেজুয়েলায় সক্রিয়। তারা প্রায়শই ভিন্নমত দমন এবং রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার জন্য সহিংসতা ও ভয় দেখানোর অভিযোগে অভিযুক্ত। রাস্তা অবরোধ করে মার্কিন নাগরিকদের খোঁজার ক্ষেত্রে তাদের কথিত জড়িত থাকার ঘটনা দেশটির আমেরিকানদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
মার্কিন সরকার দীর্ঘদিন ধরে মাদুরো সরকারের সঙ্গে একটি কঠিন সম্পর্ক বজায় রেখেছে। মানবাধিকার লঙ্ঘন, দুর্নীতি ও গণতান্ত্রিক পশ্চাৎপদতা নিয়ে উদ্বেগের কারণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগ করেছে। বর্তমান পরিস্থিতি দুটি দেশের মধ্যে ইতিমধ্যেই উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলেছে।
মাদুরোর কথিত আটকের পর বর্তমানে ভেনেজুয়েলার নিয়ন্ত্রণ কার হাতে রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পরিস্থিতি পরিবর্তনশীল এবং সম্ভাব্য বিপজ্জনক, যা মার্কিন সরকারকে তার নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে প্ররোচিত করেছে। স্টেট ডিপার্টমেন্ট পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং ভেনেজুয়েলায় থাকা মার্কিন নাগরিকদের আপডেট সরবরাহ করছে। কারাকাসে মার্কিন দূতাবাস সীমিত ক্ষমতা নিয়ে কাজ করছে, যা দেশ ছাড়তে চাওয়া আমেরিকানদের সহায়তা করার প্রচেষ্টাকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment