ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি দাবি করেছেন যে, ইরানের সাম্প্রতিক দেশব্যাপী বিক্ষোভগুলো সহিংস হয়ে ওঠার কারণ হলো ডোনাল্ড ট্রাম্পের অধীনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপের একটি অজুহাত তৈরি করা। সোমবার তেহরানে বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় আরাকচি বলেন, সপ্তাহান্তে সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গিয়েছিল, তবে পরিস্থিতি বর্তমানে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
আরাকচি জোর দিয়ে বলেন, বিক্ষোভ রক্তাক্ত হলে তেহরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে ট্রাম্পের সতর্কতা সন্ত্রাসীদের বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনী উভয়কেই লক্ষ্যবস্তু করতে উৎসাহিত করেছে, যার লক্ষ্য ছিল বিদেশি হস্তক্ষেপকে আমন্ত্রণ জানানো। তিনি আরও বলেন, "আমরা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত, তবে আলোচনার জন্যও প্রস্তুত।"
এই মাসের শুরুতে মাশহাদে শুরু হওয়া এবং অন্যান্য শহরে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভগুলো মূলত ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি এবং বেকারত্বসহ অর্থনৈতিক অসন্তোষের উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছিল। এই বিক্ষোভগুলো ইরানের অভ্যন্তরে অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং সুযোগের অভাব, বিশেষ করে তরুণ ইরানিদের মধ্যে দীর্ঘদিনের অসন্তোষকে প্রতিফলিত করে। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক নীতির কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরানের অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অধীনে, ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে এবং নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করে ইরানের প্রতি কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে। এই নীতি ইউরোপীয় শক্তিগুলোর দ্বারা সমালোচিত হয়েছে, যারা পরমাণু চুক্তির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং ইরানের সঙ্গে আলোচনার পক্ষে। ট্রাম্প প্রশাসন বারবার বিক্ষোভের প্রতি ইরান সরকারের প্রতিক্রিয়া নিন্দা করেছে এবং ইরানি জনগণের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।
ইরান সরকার যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবসহ বিদেশি শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির অভিযোগ করেছে। এই অভিযোগগুলো ইরান ও তার প্রতিপক্ষের মধ্যে আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও ছায়া যুদ্ধের একটি বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে প্রতিফলিত করে। বিক্ষোভের প্রতিক্রিয়ায় সরকারের পদক্ষেপ মানবাধিকার সংস্থাগুলোর কাছ থেকে নিন্দা কুড়িয়েছে, যারা বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতার উপর বিধিনিষেধ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
ইরানের পরিস্থিতি এখনও উত্তেজনাপূর্ণ, যেখানে আরও বিক্ষোভ এবং সহিংসতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। সরকার অস্থিরতা সৃষ্টিকারী অন্তর্নিহিত অর্থনৈতিক অসন্তোষ নিরসনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, একই সাথে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা ও বিদেশি হস্তক্ষেপের হুমকির মধ্যে একটি জটিল আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি মোকাবেলা করছে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment