নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভি এই সপ্তাহান্তে ইরানিদের প্রতি শহরের কেন্দ্রগুলো দখল করার এবং তার প্রত্যাবর্তনের জন্য প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ইরানের বর্তমান সরকারের জন্য এটি একটি চ্যালেঞ্জ, যা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম কর্তৃক দেশজুড়ে সশস্ত্র সন্ত্রাসী হামলা উস্কে দেওয়ার শামিল বলে বর্ণিত হয়েছে। ৬৫ বছর বয়সী পাহলভি কয়েক দশক ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসিত জীবনযাপন করছেন এবং অহিংস প্রতিরোধ ও ধর্মনিরপেক্ষ গণতন্ত্রের পক্ষে কথা বলছেন। তিনি ইরানি বিরোধীদের মধ্যে একটি বিশিষ্ট কণ্ঠস্বর।
পাহলভি তার X অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ঘোষণা করেছেন, "আমাদের লক্ষ্য আর কেবল রাস্তায় নেমে আসা নয়। লক্ষ্য হল শহরের কেন্দ্রগুলো দখল করার এবং সেগুলো ধরে রাখার জন্য প্রস্তুত হওয়া।" এই আহ্বান পাহলভির কণ্ঠস্বরের একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন, যিনি পূর্বে ইরানে একটি গণতান্ত্রিক সরকারে আরও ধীরে ধীরে এবং শান্তিপূর্ণ পরিবর্তনের উপর জোর দিয়েছিলেন।
১৯৬০ সালের ৩১ অক্টোবর তেহরানে জন্মগ্রহণকারী পাহলভি ছিলেন ময়ূর সিংহাসনের উত্তরাধিকারী, যখন তার পিতা শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভি ১৯৭৯ সালের ইরানি বিপ্লবে ক্ষমতাচ্যুত হন। তারপর থেকে তিনি নির্বাসনে বসবাস করছেন, প্রধানত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে, এবং ইরানি প্রবাসীদের মধ্যে একজন শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন।
পাহলভির সাম্প্রতিক এই পদক্ষেপের আহ্বান ইরানের চলমান অর্থনৈতিক দুর্দশা ও সামাজিক অস্থিরতার মধ্যে এসেছে, যা আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও অভ্যন্তরীণ নীতির কারণে আরও বেড়েছে। ইরানে পাহলভির সমর্থনের মাত্রা নির্ধারণ করা কঠিন হলেও, কিছু ইরানিদের মধ্যে তার একটি অনুসরণকারী গোষ্ঠী রয়েছে, যারা রাজতন্ত্র বা একটি ধর্মনিরপেক্ষ সরকারের প্রত্যাবর্তনের জন্য আকাঙ্ক্ষী।
ইরান সরকার পাহলভিকে বিগত যুগের একজন প্রতীকী ব্যক্তিত্ব হিসেবে দেখে এবং ধারাবাহিকভাবে তার শাসন পরিবর্তনের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম তাকে ইরানকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টাকারী বিদেশী শক্তির হাতিয়ার হিসেবে চিত্রিত করেছে।
ইরানে পাহলভির এই পদক্ষেপের আহ্বানের বাস্তবে কী প্রভাব পড়বে, তা দেখা এখনো বাকি। সরকার ক্ষমতার উপর শক্ত নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে এবং যেকোনো সংগঠিত বিরোধিতার জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে, চলমান অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক অসুবিধাগুলো ইঙ্গিত দেয় যে আরও অস্থিরতার সম্ভাবনা রয়ে গেছে। এপ্রিল ২০২৩-এ, পাহলভি ইসরায়েল সফর করেন, যেখানে তিনি জেরুজালেমের ইয়াদ ভাসেম হলোকাস্ট জাদুঘরে ইসরায়েলি মন্ত্রী গিলা গামলিয়েলের সাথে সাক্ষাৎ করেন।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment