একটি নতুন গবেষণা থেকে জানা গেছে যে বিশ্বের মহাসাগরগুলো ২০২৫ সালে ২৩ জেটাজুল তাপ শোষণ করেছে, যা মহাসাগর দ্বারা তাপ শোষণের ক্রমাগত অষ্টম বছর। শুক্রবার ‘অ্যাডভান্সেস ইন অ্যাটমোস্ফেরিক সায়েন্স’ জার্নালে প্রকাশিত গবেষণাটি ২০২৪ সালে শোষিত ১৬ জেটাজুলের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি নির্দেশ করে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ এবং চীনের ৫০ জনেরও বেশি বিজ্ঞানীর একটি দল এই গবেষণাটি পরিচালনা করে, যারা ২০১৮ সাল থেকে সমুদ্রের তাপমাত্রার ডেটা বিশ্লেষণ করেছেন। তাদের অনুসন্ধানে একটি ধারাবাহিক ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে, যেখানে আধুনিক পরিমাপ ১৯৬০-এর দশকে শুরু হওয়ার পর থেকে ২০২৫ সালে সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। জুল হলো শক্তির একটি স্ট্যান্ডার্ড একক, যা তুলনামূলকভাবে ছোট, কিন্তু একটি জেটাজুল হলো এক sextillion জুল, যা জড়িত শক্তির বিশালতাকে চিত্রিত করে। ২০২৫ সালে শোষিত ২৩ জেটাজুলকে ২৩,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০ জুল হিসাবে লেখা যেতে পারে।
ক্রমবর্ধমান সমুদ্রের তাপ শোষণ জলবায়ু পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। মহাসাগরগুলো একটি প্রধান তাপ সিঙ্ক হিসাবে কাজ করে, যা গ্রিনহাউস গ্যাস দ্বারা আবদ্ধ অতিরিক্ত তাপের ৯০% এর বেশি শোষণ করে। এই শোষণ বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে, তবে এটি সামুদ্রিক বাস্তুসংস্থান, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা এবং আবহাওয়ার ধরনেও উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে। উষ্ণ সমুদ্রের তাপমাত্রা কোরাল ব্লিচিং, পরিবর্তিত সামুদ্রিক আবাসস্থল এবং আরও তীব্র ঝড়ের কারণ হতে পারে।
বিজ্ঞানীরা সমুদ্রের তাপমাত্রার পরিমাণ অনুমান করার জন্য অত্যাধুনিক জলবায়ু মডেল এবং ডেটা বিশ্লেষণ কৌশল ব্যবহার করেন। এই মডেলগুলোতে সমুদ্রের উপরিভাগের তাপমাত্রা, লবণাক্ততার মাত্রা এবং সমুদ্র স্রোতসহ বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকে। বিশ্বজুড়ে সেন্সর, স্যাটেলাইট এবং গবেষণা জাহাজ থেকে ডেটা সংগ্রহ করা হয়।
সমুদ্রের তাপ শোষণ ক্রমাগত বৃদ্ধি জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলা করার জরুরি অবস্থার উপর জোর দেয়। বিশেষজ্ঞরা সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রভাব কমাতে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন। ভবিষ্যতের গবেষণা জলবায়ু মডেলগুলোর উন্নতি এবং সমুদ্র ও বায়ুমণ্ডলের মধ্যে জটিল মিথস্ক্রিয়াগুলো বোঝার দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করবে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment