ইরানে ক্রমবর্ধমান অস্থিরতা এবং এর বৈশ্বিক সরবরাহের উপর সম্ভাব্য প্রভাবের কারণে রবিবার অপরিশোধিত তেলের দাম সামান্য বেড়েছে। মার্কিন তেলের দাম ০.৫৬% বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৫৯.৪৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যেখানে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ০.৫২% বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৬৩.৬৭ ডলারে পৌঁছেছে।
ইরানের সরকারের স্থিতিশীলতা নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের কারণে এই মূল্যবৃদ্ধি দেখা গেছে। ইরান দৈনিক ৩০ থেকে ৪০ লক্ষ ব্যারেল তেল উৎপাদনকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের উপর সরকারের দমন-পীড়নের প্রতিক্রিয়ায় সামরিক পদক্ষেপের কথা বিবেচনা করছেন, যা বাজারের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
চলমান অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে ইরানের সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়েছে, যার ফলস্বরূপ সরকার ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়েছে এবং কঠোরভাবে ভিন্নমত দমন করছে। মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলোর অনুমান, সরকারের দমন-পীড়নে শত শত মানুষ মারা গেছে। ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অফ ওয়ার (ISW)-এর বিশ্লেষকরা মনে করেন, নেতৃত্বের ক্ষমতা বজায় রাখার জন্য অপরিহার্য নিরাপত্তা কাঠামো দুর্বল হওয়ার লক্ষণ দেখাচ্ছে। প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে চলমান বিক্ষোভ ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর ক্ষমতা এবং ইচ্ছাকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে।
ইরানের তেল উৎপাদনে সম্ভাব্য ব্যাঘাত বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজারের জন্য উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। ইরানের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেলে সরবরাহ কমে যেতে পারে এবং দাম বেড়ে যেতে পারে, যা বিশ্বজুড়ে ভোক্তা এবং ব্যবসাকে প্রভাবিত করবে। এই পরিস্থিতি ওপেক-এর উৎপাদন নীতি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শেল উৎপাদন এবং বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মতো বিষয়গুলোর দ্বারা প্রভাবিত একটি অস্থির বাজারে আরও একটি জটিলতা যুক্ত করেছে।
ভবিষ্যতে তেলের দামের গতিপথ মূলত ইরানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়ার উপর নির্ভর করবে। সংঘাত আরও বাড়লে বা তেল উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য ব্যাঘাত ঘটলে দাম দ্রুত বাড়তে পারে। বিপরীতভাবে, উত্তেজনা হ্রাস পেলে বা রাজনৈতিক সংকটের সমাধান হলে বাজারের উদ্বেগ কমতে পারে এবং দাম স্থিতিশীল হতে পারে। আগামী দিন এবং সপ্তাহগুলোতে বাজার সম্ভবত ইরানের ঘটনাবলীর প্রতি সংবেদনশীল থাকবে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment