বিবিসি'র প্রধান আন্তর্জাতিক সংবাদদাতা লিস ডাউসেটের মতে, ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর ইরানের নেতৃত্ব সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। সরকার কঠোর নিরাপত্তা অভিযান এবং প্রায় সম্পূর্ণ ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়েছে, যা আগের অস্থিরতার সময়ের তুলনায় নজিরবিহীন।
তেহরানের রাস্তা, যা একসময় বিক্ষোভকারীতে পূর্ণ ছিল, এখন শান্ত হয়ে আসছে বলে জানা গেছে। তেহরানের একজন বাসিন্দা বিবিসি পার্সিয়ানকে জানিয়েছেন যে শুক্রবারে বড় জনসমাগম এবং উল্লেখযোগ্য গুলিবর্ষণ দেখা গেছে, তবে শনিবার রাতের পরিস্থিতি অনেক শান্ত ছিল। একজন ইরানি সাংবাদিক বলেছেন যে এখন বাইরে যাওয়া "মৃত্যু কামনা" করার শামিল।
এই অভ্যন্তরীণ সংকট এমন এক সময়ে ঘটছে যখন বহিরাগত উত্তেজনা বেড়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে বারবার সতর্ক করেছেন। এই সতর্কতাগুলো আসে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সাত মাস আগে হওয়া ১২ দিনের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের প্রধান পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলার পর, যা ইরানি régimen-কে দুর্বল করে দিয়েছে। তবে, ট্রাম্পের মতে, এই পরিস্থিতি ইরানকে সুবিধা করে দিয়েছে। ট্রাম্প বলেছেন যে তেহরান ফিরে যেতে চেয়েছে।
বর্তমান অস্থিরতা ইরানি সমাজের গভীরে থাকা অসন্তোষকে প্রতিফলিত করে, যার মধ্যে রয়েছে অর্থনৈতিক দৈন্য, সামাজিক স্বাধীনতার অভাব এবং রাজনৈতিক দমন-পীড়ন। সরকারের প্রতিক্রিয়া, যা বলপ্রয়োগ এবং সেন্সরশিপ দ্বারা চিহ্নিত, তা জনগণের ক্ষোভকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়ার কারণে ইরানিদের একে অপরের সাথে এবং বাইরের বিশ্বের সাথে যোগাযোগের ক্ষমতা মারাত্মকভাবে সীমিত হয়ে গেছে, যা মানবাধিকার এবং তথ্যের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
পরিস্থিতি এখনও পরিবর্তনশীল, এবং বর্তমান সংকটের দীর্ঘমেয়াদী পরিণতি অনিশ্চিত। ভিন্নমত দমন এবং নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার জন্য সরকারের ক্ষমতা ফলাফলের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে, এবং অনেক দেশ সংযম ও মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধার আহ্বান জানিয়েছে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment