মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন যে সুপ্রিম কোর্ট তার প্রশাসনের শুল্কের বিপক্ষে রায় দিলে একটি সম্ভাব্য "পুরোপুরি বিপর্যয়" হতে পারে, যা আসন্ন আইনি সিদ্ধান্তের বিষয়ে তার উদ্বেগকে ইঙ্গিত করে। সোমবার ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্টে, ট্রাম্প রায়ের উচ্চ stakes-গুলো তুলে ধরেন, যা বুধবারের প্রথম দিকে দেওয়া হতে পারে এবং যদি ব্যবসাগুলি রিফান্ড দাবি করতে সক্ষম হয় তবে যে অসুবিধাগুলি দেখা দিতে পারে তাও বলেন।
ট্রাম্প বলেন যে, কত টাকা পাওনা তা নির্ধারণ করতে এবং কাকে, কখন এবং কোথায় অর্থ প্রদান করতে হবে তা জানতে "বহু বছর" লেগে যাবে। তার মন্তব্য তার বাণিজ্য কৌশলকে ঘিরে চলমান আইনি লড়াইকে আরও স্পষ্ট করে, যা ছোট ব্যবসা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজ্যগুলির একটি দলের কাছ থেকে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। এই চ্যালেঞ্জকারীরা যুক্তি দেখান যে ট্রাম্প শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে তার ক্ষমতা ছাড়িয়ে গেছেন, যা প্রাথমিকভাবে গত এপ্রিলে ঘোষণা করা হয়েছিল।
আইনি চ্যালেঞ্জের মূল বিষয় হল ক্ষমতার পৃথকীকরণ এবং বাণিজ্য বিষয়ে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার সীমা। আইন বিশেষজ্ঞরা ব্যাখ্যা করেন যে সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত বাণিজ্য নীতি নির্ধারণে নির্বাহী ও আইন বিভাগের মধ্যে ভারসাম্যকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করতে পারে। শুল্কের বিপক্ষে রায় রাষ্ট্রপতির একতরফাভাবে এই ধরনের ব্যবস্থা আরোপ করার ক্ষমতাকে সীমিত করে একটি নজির স্থাপন করতে পারে।
প্রশ্নবিদ্ধ শুল্কগুলি বিস্তৃত পণ্যের উপর প্রযোজ্য এবং এটি ট্রাম্পের "আমেরিকা ফার্স্ট" বাণিজ্য নীতির একটি মূল উপাদান। শুল্কের সমর্থকরা যুক্তি দেন যে দেশীয় শিল্পকে রক্ষা করতে এবং অন্যান্য দেশের অন্যায্য বাণিজ্য চর্চা মোকাবেলা করার জন্য এগুলি প্রয়োজনীয়। তবে, সমালোচকরা মনে করেন যে শুল্ক ভোক্তাদের এবং ব্যবসার জন্য খরচ বাড়িয়েছে, সরবরাহ ব্যবস্থাকে ব্যাহত করেছে এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত মার্কিন অর্থনীতি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্পর্কের জন্য সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে। যদি আদালত শুল্ক বহাল রাখে, তবে এটি বাণিজ্য বিষয়ে রাষ্ট্রপতির ব্যাপক ক্ষমতাকে নিশ্চিত করবে। বিপরীতভাবে, শুল্কের বিপক্ষে রায় ব্যবসার রিফান্ড দেওয়ার একটি জটিল এবং দীর্ঘ প্রক্রিয়ার দিকে নিয়ে যেতে পারে এবং বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা মোকাবেলার জন্য সম্ভবত কংগ্রেসের পদক্ষেপের প্রয়োজন হতে পারে। এই মামলাটি ব্যবসা, নীতিনির্ধারক এবং আইন পণ্ডিতরা একইভাবে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন, কারণ এটি বহু বছরের জন্য মার্কিন বাণিজ্য নীতির চিত্রকে নতুন আকার দিতে পারে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment