কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এই সপ্তাহে বেইজিং পৌঁছেছেন, যা প্রায় এক দশক পর কোনো কানাডীয় নেতার চীন সফর। "আমেরিকা ফার্স্ট" এজেন্ডা দ্বারা সৃষ্ট চলমান বৈশ্বিক বাণিজ্য উত্তেজনার অর্থনৈতিক প্রভাবের সাথে যখন কানাডা লড়াই করছে, ঠিক তখনই এই সফরটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
কার্নি এই সফরকে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক স্থিতিশীল করার প্রচেষ্টা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেশ কঠিন ছিল। কানাডার বসন্তকালীন নির্বাচনী প্রচারণার সময় এক বিতর্কে কার্নি চীনকে কানাডার সবচেয়ে বড় ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করেন, যেখানে নির্বাচন প্রভাবিত করার বিষয়ে উদ্বেগ এবং কানাডার আর্কটিক অঞ্চলের দাবিগুলোর প্রতি চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করা হয়।
এই সফরের মূল উদ্দেশ্য হলো পরিবর্তিত বৈশ্বিক জোটের আলোকে কানাডার বাণিজ্য কৌশলটির একটি বৃহত্তর পুনর্মূল্যায়ন করা। "আমেরিকা ফার্স্ট" নীতিগুলো মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য সম্পর্ককে নতুন আকার দেওয়ার লক্ষ্যে তৈরি হলেও এর একটি ঢেউয়ের মতো প্রভাব পড়েছে, যা কানাডার মতো দেশগুলোকে তাদের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বকে বৈচিত্র্যময় করতে উৎসাহিত করেছে। এর ফলস্বরূপ, একটি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরাশক্তি চীনের সাথে সম্পর্ক জোরদার করার দিকে নতুন করে মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে।
কানাডা ও চীনের মধ্যে সম্পর্ক সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্য বাধার সম্মুখীন হয়েছে। বাণিজ্য অনুশীলন, মানবাধিকার উদ্বেগ এবং ভ্যাঙ্কুভারে হুয়াওয়ে নির্বাহী মেং ওয়ানঝুর আটকের ঘটনা কূটনৈতিক শীতলতার একটি সময়কালে অবদান রেখেছে। বিশ্ব মঞ্চে চীনের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রভাব এটিকে কানাডার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার করে তুলেছে। তাই, এই সফর এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করে অভিন্ন ক্ষেত্র খোঁজার ইচ্ছার ইঙ্গিত দেয়।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ইঙ্গিত দিয়েছে যে আলোচনা বাণিজ্য, জলবায়ু পরিবর্তন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করবে। দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে কানাডার পররাষ্ট্রনীতিকে নতুন করে সাজানোর ক্ষেত্রে এই সফরকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment