নিউ ইয়র্ক সিটিতে প্রায় ১৫,০০০ নার্স সোমবার সকালে কর্মবিরতি শুরু করেছেন, ব্যর্থ চুক্তি আলোচনা এবং উন্নত কাজের পরিবেশের দাবিতে। শহরের ইতিহাসে বৃহত্তম এই নার্স ধর্মঘট তিনটি প্রধান বেসরকারি হাসপাতাল সিস্টেমকে প্রভাবিত করেছে: মাউন্ট সিনাই, মন্টিফিওর এবং নিউইয়র্ক-প্রেসবিটেরিয়ান।
নির্বাচিত কর্মকর্তাদের সাথে নার্সরা নিরাপদ কর্মী সংখ্যা, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা এবং কর্মক্ষেত্রে সুরক্ষা ব্যবস্থা বৃদ্ধির মতো বেশ কয়েকটি মূল বিষয় নিয়ে advocacy করছিলেন। ইউনিয়ন প্রতিনিধিদের মতে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে কয়েক মাসের দর কষাকষি এই মূল দাবিগুলোর ওপর অর্থবহ অগ্রগতি আনতে ব্যর্থ হয়েছে।
বিভিন্ন গবেষণা অনুসারে, নিরাপদ কর্মী সংখ্যা মানসম্পন্ন রোগীর সেবার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। হেলথ অ্যাফেয়ার্স জার্নালে প্রকাশিত ২০২১ সালের একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে যে নার্স-থেকে-রোগীর অনুপাতের সাথে রোগীর ফলাফলের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে, যেখানে উচ্চ অনুপাতের কারণে হাসপাতালে সংক্রমণ, ওষুধের ভুল এবং মৃত্যুর হার বেড়ে যায়। অপর্যাপ্ত কর্মী সংখ্যা নার্সদের মধ্যে কাজের প্রতি অনীহা এবং ক্লান্তি বাড়াতে পারে, যা রোগীর নিরাপত্তাকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে।
নার্সরা তাদের পেশার শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির কথা উল্লেখ করে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা সুবিধাও চাইছেন। নিউইয়র্ক স্টেট নার্সেস অ্যাসোসিয়েশনের একজন মুখপাত্র বলেন, "নার্সরা সামনের সারিতে থেকে প্রচুর চাপ এবং অসুস্থতার মুখোমুখি হন।" "তাদের সুস্থতা এবং সর্বোত্তম সেবা প্রদানের ক্ষমতা নিশ্চিত করার জন্য পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা অপরিহার্য।"
কর্মক্ষেত্রে সহিংসতার সুরক্ষা ধর্মঘটী নার্সদের জন্য আরেকটি উদ্বেগের বিষয়। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর অকুপেশনাল সেফটি অ্যান্ড হেলথ (NIOSH) এর ২০১৮ সালের একটি প্রতিবেদনে দেখা গেছে যে অন্যান্য পেশার তুলনায় নার্সদের কর্মক্ষেত্রে সহিংসতার শিকার হওয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। নার্সরা সহিংসতার ঘটনা প্রতিরোধ ও মোকাবিলার জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং প্রোটোকল বাড়ানোর দাবি জানাচ্ছেন।
ধর্মঘটের তাৎক্ষণিক প্রভাবের মধ্যে রয়েছে অ-জরুরি চিকিৎসা পদ্ধতিতে সম্ভাব্য বিলম্ব এবং জরুরি বিভাগে অপেক্ষার সময় বৃদ্ধি। হাসপাতাল প্রশাসকরা অস্থায়ী কর্মী ব্যবহার করে এবং অ্যাপয়েন্টমেন্টের সময়সূচী পরিবর্তন করে জরুরি পরিষেবাগুলো বজায় রাখার জন্য কাজ করছেন।
নার্স ইউনিয়ন এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে। ধর্মঘটের সময়কাল এবং চূড়ান্ত ফলাফল অনিশ্চিত রয়ে গেছে, তবে শহরের স্বাস্থ্যসেবার ওপর এর প্রভাব ইতিমধ্যেই অনুভূত হচ্ছে। জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও নীতিনির্ধারকরা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment