ডিসেম্বরে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ায় ভারতের মূল্যস্ফীতি বেড়ে ১.৩৩%-এ পৌঁছেছে। ভারতের অর্থনীতির সূক্ষ্ম চালচলন অব্যাহত রয়েছে, কারণ ডিসেম্বরে ভোক্তা মূল্যস্ফীতি বেড়ে ১.৩৩%-এ দাঁড়িয়েছে, যা আগের মাসের ০.৭১% থেকে সামান্য বেশি। আপাতদৃষ্টিতে সামান্য পরিবর্তন মনে হলেও, মূলত খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ার কারণে মূল্যস্ফীতির এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অর্থনীতি এবং ভারতীয় নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনের মধ্যে জটিল সম্পর্ককে তুলে ধরে। সবজি, মাংস, মাছ, ডিম, মশলা এবং ডালের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়ার সরাসরি প্রভাব পড়ে পরিবারগুলোর বাজেটে, বিশেষ করে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোতে, যা তাদের কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে এবং খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করতে বাধ্য করে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গ্রামীণ ও শহুরে মূল্যস্ফীতির হারের মধ্যে পার্থক্য দেখা যায়, যেখানে শহরাঞ্চলে মূল্যস্ফীতি বেশি বেড়েছে। এই ভিন্নতা জনসংখ্যার বিভিন্ন অংশের মুখোমুখি হওয়া বিভিন্ন অর্থনৈতিক চাপকে তুলে ধরে। শহুরে ভোক্তাদের হয়তো বিস্তৃত পরিসরের পণ্য ও পরিষেবাতে প্রবেশাধিকার রয়েছে, তবে জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয়ের কারণে তারা মুদ্রাস্ফীতির চাপের মুখেও বেশি পড়ে। অন্যদিকে, গ্রামীণ জনগোষ্ঠী, যারা প্রায়শই কৃষির উপর নির্ভরশীল, তারা খাদ্যপণ্যের দামের ওঠানামার কারণে বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জ্বালানি এবং আলোর মূল্যস্ফীতি কম হওয়া সামান্য স্বস্তি দিলেও, সামগ্রিক প্রবণতা একটি কঠিন অর্থনৈতিক পরিস্থিতির দিকেই ইঙ্গিত করে।
রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (আরবিআই) পরিস্থিতিটি সতর্কতার সাথে পর্যবেক্ষণ করছে, এবং মার্চ ২০২৬ সালে শেষ হওয়া অর্থবছরে ভোক্তা মূল্যস্ফীতি প্রায় ২% এর आसपास থাকার প্রত্যাশা করছে। তবে, ২০২৫ সালের রেকর্ড-নিন্ম মূল্যস্ফীতি ইতিমধ্যেই নামমাত্র জিডিপি বৃদ্ধিতে একটি শীতল প্রভাব ফেলেছে, যা নীতিনির্ধারক এবং বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। নামমাত্র জিডিপি প্রবৃদ্ধির এই ধীরগতি একটি বৃহত্তর চ্যালেঞ্জকে প্রতিফলিত করে: এমনভাবে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে উৎসাহিত করা, যাতে লাগামছাড়া মুদ্রাস্ফীতি না ঘটে, যা ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস করতে পারে এবং অর্থনীতিকে অস্থিতিশীল করতে পারে।
ফেব্রুয়ারিতে নতুন ভিত্তি বছর ২০২৪ ধরে নতুন ভোক্তা মূল্য সূচক (সিপিআই) চালুর মাধ্যমে বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতার আরও সঠিক প্রতিফলন ঘটানোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। এই পুনর্মূল্যায়ন আরবিআইকে মুদ্রানীতি সম্পর্কে আরও ভালোভাবে অবগত হয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে, যা সম্ভবত সুদের হার এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক বিষয়গুলোকে প্রভাবিত করবে। ভারত যখন এই জটিল অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবেলা করছে, তখন মূল্যস্ফীতি, জিডিপি প্রবৃদ্ধি এবং ভোক্তা আচরণের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক দেশের অর্থনৈতিক গতিপথ এবং এর বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment