সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী সার্জিও গোর সোমবার ভারতের মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এমন বিরোধগুলো নিরসনে সহায়তা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। দূতাবাসের কর্মীদের উদ্দেশ্যে গোর বলেন, ট্রাম্পের ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দৃঢ় সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বলেন, "প্রকৃত বন্ধুরা ভিন্নমত পোষণ করতে পারে, তবে শেষ পর্যন্ত তাদের মধ্যেকার পার্থক্যগুলো মিটিয়ে নেয়।"
তবে, এই অনুভূতিগুলো ভারতীয় কর্মকর্তাদের মধ্যে সংশয় সৃষ্টি করতে পারে, যারা ট্রাম্পের বেশ কিছু পদক্ষেপের পরে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের জন্য কাজ করছেন, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য সম্পর্কে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। মোদি, যিনি তার প্রথম মেয়াদে ট্রাম্পের সাথে একটি ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করেছিলেন, তাকে উচ্চ শুল্ক এবং ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের কাছ থেকে আসা সমালোচনাসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে।
ভারতীয় কূটনীতিকরা নতুন মার্কিন প্রশাসনের সাথে একটি ফলপ্রসূ কাজের সম্পর্ক স্থাপনে সংগ্রাম করেছেন। একটি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি সুরক্ষিত করার লক্ষ্যে আলোচনা অমীমাংসিত রয়ে গেছে, যা নয়াদিল্লিকে স্বস্তি দিতে পারত। এই উত্তেজনা ডেমোক্রেটিক এবং রিপাবলিকান উভয় প্রশাসনের দুই দশকের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে ভেস্তে দিতে পারে।
গোরের নিয়োগ এমন এক সময়ে এসেছে যখন যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্ক একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। ঐতিহাসিকভাবে দুটি দেশ কৌশলগত স্বার্থের অংশীদার, বিশেষ করে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলায়। তবে, বাণিজ্য বিরোধ এবং মেধা সম্পত্তি অধিকার ও ডেটা স্থানীয়করণের মতো বিষয়গুলোতে ভিন্ন মতামতের কারণে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
ইউএস চেম্বার অফ কমার্স উভয় সরকারকে বাণিজ্য বাধাগুলো নিরসনে এবং আরও বেশি অনুমানযোগ্য বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি করার ওপর জোর দিয়েছে। গত সপ্তাহে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে চেম্বার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক সুরক্ষাPromoting-এর জন্য একটি শক্তিশালী যুক্তরাষ্ট্র-ভারত অংশীদারিত্বের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছে।
সামনে তাকিয়ে, গোর তার ভূমিকায় কতটা সফল হবেন, তা নির্ভর করবে দুটি দেশের ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে ব্যবধান ঘোচাতে এবং মূল বিষয়গুলোতে একটি সাধারণ ভিত্তি খুঁজে বের করার ওপর। পরবর্তী পদক্ষেপগুলোতে সম্ভবত বাণিজ্য আলোচনাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং বাজার সুবিধা ও নিয়ন্ত্রক নীতিগুলো সম্পর্কে উভয় পক্ষের উদ্বেগকে মোকাবিলার জন্য নতুন করে প্রচেষ্টা চালানো হবে। ভারতীয় সরকার এখনও পর্যন্ত গোরের প্রাথমিক বক্তব্যের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি, তবে বিশ্লেষকরা একটি সতর্ক পদক্ষেপের প্রত্যাশা করছেন, যেখানে সম্পর্ক জোরদার করার প্রতিশ্রুতি প্রদর্শনের জন্য বাস্তব পদক্ষেপের ওপর জোর দেওয়া হবে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment