ফেডারেল রিজার্ভের সাধারণত শান্ত জলে একটি ঝড় উঠছে। মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তিন প্রাক্তন কর্ণধার – জেনেট ইয়েলেন, বেন বার্নাঙ্কে এবং অ্যালান গ্রিনস্প্যান – মুদ্রাস্ফীতি বা সুদের হার নিয়ে নয়, বরং প্রতিষ্ঠানেরIntegrity বা অখণ্ডতা নিয়েই একটি কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তাদের সম্মিলিত কণ্ঠস্বর, আরও দশ জন বিশিষ্ট প্রাক্তন কর্মকর্তার সাথে যোগ দিয়ে, বর্তমান ফেড চেয়ার জেরোম পাওয়েলের বিরুদ্ধে একটি ফৌজদারি তদন্তের নিন্দা করেছে, এটিকে ফেডের স্বাধীনতার উপর একটি বিপজ্জনক আক্রমণ এবং কম স্থিতিশীল অর্থনীতিতে দেখা রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের একটি উদ্বেগজনক প্রতিধ্বনি হিসাবে তুলে ধরেছে।
বিচার বিভাগের (DoJ) এই পদক্ষেপটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পাওয়েলের উপর এক বছর ধরে চলা অবিরাম, প্রায়শই ব্যক্তিগত আক্রমণের পরে এসেছে, যিনি প্রকাশ্যে পাওয়েলের সুদের হারের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন এবং এমনকি নাম ধরেও ডেকেছেন। যদিও তদন্তের নির্দিষ্ট বিষয়গুলো এখনও অস্পষ্ট, প্রাক্তন ফেড চেয়াররা এটিকে একটি বিপজ্জনক নজির হিসেবে দেখছেন, যা রাজনৈতিক চাপ থেকে মুক্ত হয়ে অর্থনৈতিক তথ্যের ভিত্তিতে স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ফেডের ক্ষমতাকে দুর্বল করতে পারে।
প্রাক্তন কর্মকর্তারা বলেছেন, "এভাবেই দুর্বল প্রতিষ্ঠানযুক্ত উন্নয়নশীল দেশগুলোতে মুদ্রানীতি তৈরি করা হয়, যার ফলে মুদ্রাস্ফীতি এবং তাদের অর্থনীতির কার্যকারিতার উপর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।" ফেডের স্বাধীনতা আপোস করলে অর্থনৈতিক অস্থিরতার সম্ভাবনা তুলে ধরে তারা আরও বলেন, "এর স্থান যুক্তরাষ্ট্রে নেই, যার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো আইনের শাসন, যা আমাদের অর্থনৈতিক সাফল্যের ভিত্তি।"
কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বাধীনতা আধুনিক অর্থনৈতিক নীতির একটি ভিত্তি। এটি তাদের কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে দেয়, যেমন মুদ্রাস্ফীতি মোকাবেলার জন্য সুদের হার বাড়ানো, এমনকি সেই সিদ্ধান্তগুলো স্বল্প মেয়াদে অজনপ্রিয় হলেও। মূল্য স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াতে এই স্বাধীনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যখন রাজনৈতিক বিবেচনা মুদ্রানীতিকে প্রভাবিত করতে শুরু করে, তখন এর পরিণতি মারাত্মক হতে পারে, যার ফলে মুদ্রাস্ফীতি, মুদ্রার সংকট এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা হ্রাস পায়।
বর্তমান পরিস্থিতি AI-এর ভূমিকা নিয়ে গভীর প্রশ্ন তোলে যে, কীভাবে এই ধরনের সংকট বোঝা এবং মোকাবেলা করা যায়। AI-চালিত সরঞ্জামগুলো ক্রমবর্ধমানভাবে অর্থনৈতিক ডেটা বিশ্লেষণ করতে, বাজারের প্রবণতা অনুমান করতে এবং এমনকি নীতি সিদ্ধান্তের সম্ভাব্য প্রভাব মূল্যায়ন করতে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে, এই সরঞ্জামগুলো কেবল সেই ডেটার মতোই ভালো, যেগুলোর উপর ভিত্তি করে এগুলোকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং এগুলো মানুষের আচরণ ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অপ্রত্যাশিত উপাদানগুলোর হিসাব দিতে পারে না।
উদাহরণস্বরূপ, ঐতিহাসিক ডেটার উপর ভিত্তি করে তৈরি একটি AI মডেল সুদের হার বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট বাজার প্রতিক্রিয়া অনুমান করতে পারে। কিন্তু যদি সেই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয় বলে মনে করা হয়, তাহলে বাজারের প্রতিক্রিয়া সম্পূর্ণ ভিন্ন হতে পারে। এটি AI-এর সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে এমন একটি বিশ্বে, যেখানে মানুষের আবেগ এবং রাজনৈতিক বিবেচনা একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে, চ্যালেঞ্জ হবে এমন AI সিস্টেম তৈরি করা, যা এই জটিল বিষয়গুলো আরও ভালোভাবে বুঝতে এবং হিসাব করতে পারে। এর জন্য AI মডেলগুলোতে সংবাদ নিবন্ধ, সামাজিক মাধ্যমের অনুভূতি এবং বিশেষজ্ঞদের মতামতের মতো গুণগত ডেটা অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। AI অ্যালগরিদম তৈরি করতে হবে, যা অপ্রত্যাশিত ঘটনা থেকে শিখতে পারে এবং পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পারে।
জেরোম পাওয়েলের বিরুদ্ধে তদন্তের প্রাক্তন ফেড চেয়ারদের নিন্দা কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বাধীনতা রক্ষার গুরুত্বের উপর জোর দেয়। এটি এমন একটি বিশ্বে AI-এর ভূমিকার আরও সূক্ষ্মভাবে বোঝার প্রয়োজনীয়তাকেও তুলে ধরে, যেখানে অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তগুলো ক্রমবর্ধমানভাবে রাজনৈতিক বিবেচনার সাথে জড়িত। প্রযুক্তির ক্রমাগত বিকাশের সাথে সাথে, এটা নিশ্চিত করা জরুরি যে AI সরঞ্জামগুলো যেন ভালো অর্থনৈতিক নীতি এবং আইনের শাসনের নীতিগুলোকে সমর্থন করার জন্য ব্যবহৃত হয়, দুর্বল করার জন্য নয়।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment