তাইপেইয়ের কর্মকর্তাদের মতে, তাইওয়ান এবং যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের রপ্তানির উপর মার্কিন শুল্ক হ্রাসের লক্ষ্যে একটি বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে "সাধারণ ঐকমত্যে" পৌঁছেছে। তাইওয়ানের বাণিজ্য আলোচনা অফিস মঙ্গলবার ঘোষণা করেছে যে মার্কিন প্রতিনিধিদের সাথে কয়েক মাস আলোচনার পর একটি চুক্তির কাঠামো প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
এএফপি নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে অফিসটি জানায়, আলোচনার প্রাথমিক উদ্দেশ্য ছিল ক্রমবর্ধমান শুল্ক আরোপ করা ছাড়াই পারস্পরিক শুল্ক হ্রাস অর্জন এবং ধারা ২৩২ এর অধীনে বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করা। বাণিজ্য অফিস আল জাজিরার কাছ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্যের অনুরোধের জবাব দেয়নি।
সম্ভাব্য বাণিজ্য চুক্তিটি এই অঞ্চলে চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে এসেছে, বিশেষ করে তাইওয়ানের উপর চীনের অবস্থান নিয়ে। অর্থনৈতিকভাবে, চুক্তিটি তাইওয়ানের রপ্তানিমুখী অর্থনীতিকে একটি উৎসাহ যোগাতে পারে, যা যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্যের উপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। শুল্ক হ্রাস মার্কিন বাজারে তাইওয়ানের পণ্যকে আরও বেশি প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতে পারে, যা সম্ভাব্যভাবে রপ্তানির পরিমাণ এবং রাজস্ব বৃদ্ধি করবে।
মার্কিন বাণিজ্য আইনের ধারা ২৩২ রাষ্ট্রপতিকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত আমদানি পণ্যের উপর শুল্ক আরোপের অনুমতি দেয়। এই ধারার অধীনে বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করা তাইওয়ানকে জাতীয় নিরাপত্তা ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ শুল্ক থেকে রক্ষা করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের সাথে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করতে চাইছে, এটিকে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে দেখে। এই বাণিজ্য চুক্তি চীনের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক প্রভাব মোকাবিলার জন্য একটি বৃহত্তর কৌশলের অংশ।
"সাধারণ ঐকমত্য" একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি নির্দেশ করলেও, চুক্তির সুনির্দিষ্ট বিবরণ, যার মধ্যে শুল্ক হ্রাসের পরিমাণ এবং অন্তর্ভুক্ত নির্দিষ্ট পণ্যগুলো এখনও চূড়ান্ত করা হয়নি। পরবর্তী পদক্ষেপ সম্ভবত এই বিবরণগুলো সমাধান এবং চুক্তিটিকে আনুষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার জন্য আরও আলোচনা জড়িত থাকবে। বাণিজ্য চুক্তিটির চূড়ান্তকরণ এবং বাস্তবায়নের সময়সীমা বর্তমানে অস্পষ্ট।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment