মিয়ানমারের কারেন রাজ্যে, শুন্ডা পার্ক নামক একটি প্রতারণামূলক কমপ্লেক্স, যা একটি বৈধ ব্যবসা পার্কের ছদ্মবেশে ছিল, ২০২৪ সাল থেকে অনলাইন প্রতারণার মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী ব্যক্তিদের প্রতারিত করে অবৈধ আয় তৈরি করেছে। বিশৃঙ্খল সীমান্ত এলাকায় অবস্থিত এই কর্মকাণ্ডে প্রায় ৩০টি দেশের ৩,৫০০ জনেরও বেশি কর্মী ছিল, যাদের মধ্যে কয়েকজনকে कथितভাবে অপহরণ করে প্রতারণামূলক স্কিমগুলোতে অংশ নিতে বাধ্য করা হয়েছিল।
এই কমপ্লেক্সটি দ্রুত গড়ে ওঠে এবং এতে সারি সারি কম্পিউটার মনিটর ও প্রেরণামূলক স্লোগানযুক্ত অফিসের স্থান ছিল, যা একটি সমৃদ্ধ ব্যবসায়িক পরিবেশের মুখোশ তৈরি করে। ভিডিও কনফারেন্স স্যুটগুলোতে নকল ব্যবসার বই ও শিল্পকর্ম সাজানো ছিল, যা বৈধ কর্পোরেট সেটিংসের মতো করে তৈরি করা হয়েছিল, যাতে অনলাইন যোগাযোগের সময় সম্ভাব্য শিকারদের প্রতারিত করা যায়। প্রতারকরা প্রতিবার কারো কাছ থেকে ৫,০০০ ডলার হাতিয়ে নিতে পারলে একটি চীনা ঘণ্টা বাজিয়ে তাদের সাফল্য উদযাপন করত।
যুদ্ধাঞ্চলে শুন্ডা পার্কের অবস্থান সুরক্ষা ও গোপনীয়তা প্রদান করে, যা ন্যূনতম নজরদারির মধ্যে এই কার্যক্রমকে প্রসারিত করতে সহায়তা করে। পার্কের কার্যকলাপের মধ্যে ছিল বিভিন্ন ধরনের অনলাইন প্রতারণা, যেমন রোমান্স স্ক্যাম থেকে শুরু করে ক্রিপ্টোকারেন্সি জালিয়াতি, যা কেন্টাকি থেকে কাজাখস্তান পর্যন্ত ব্যক্তিদের লক্ষ্য করত। শুন্ডা পার্কের কার্যক্রমের আর্থিক প্রভাব এখনও মূল্যায়ন করা হচ্ছে, তবে কর্তৃপক্ষের ধারণা, শিকারদের মোট ক্ষতির পরিমাণ কয়েক মিলিয়ন ডলার হতে পারে।
শুন্ডা পার্কের মতো স্ক্যাম চক্রের উত্থান দুর্বল শাসন ও সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলগুলোকে কাজে লাগিয়ে অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনার ক্ষেত্রে আন্তঃদেশীয় অপরাধী চক্রের ক্রমবর্ধমান প্রবণতাকে প্রতিফলিত করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও নিয়ন্ত্রক তদারকির অভাবে এই কার্যক্রমগুলো বিস্তার লাভ করেছে, যা বিশ্বব্যাপী আর্থিক নিরাপত্তার জন্য একটি বড় হুমকি। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো এই নেটওয়ার্কগুলো ভেঙে দিতে এবং অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে কাজ করছে, তবে জটিল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং প্রতারণার অত্যাধুনিক পদ্ধতির কারণে চ্যালেঞ্জগুলো অনেক।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment