দক্ষিণ কোরিয়ার আইনজীবীরা দেশটির প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ইউন সুক ইয়লের জন্য মৃত্যুদণ্ড চেয়েছেন, যিনি ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে একটি বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত। সিউলে ইয়ুনের বিচারকালে সমাপ্তি ভাষণে এই অনুরোধ করা হয়, যেখানে তার বিরুদ্ধে সামরিক শাসন জারির চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে।
আইনজীবীরা যুক্তি দেখিয়েছেন যে ইউন ছিলেন "একটি বিদ্রোহের মূল হোতা", যা কয়েক ঘণ্টা স্থায়ী হওয়া সত্ত্বেও দেশকে রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে ফেলেছিল, সিউলের সংবাদদাতা জেক কওনের মতে। পরবর্তীতে ইউনকে সংসদ কর্তৃক অভিশংসন করা হয় এবং বিচারের মুখোমুখি করার জন্য আটক করা হয়।
ইউন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন, দাবি করেছেন যে তার সামরিক আইন ঘোষণা শুধুমাত্র একটি প্রতীকী কাজ ছিল যা বিরোধী দলের কথিত অসদাচরণ তুলে ধরার উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল।
বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগে দক্ষিণ কোরিয়ার আইনে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। বিদ্রোহের অভিযোগে অভিযুক্ত কোনো আসামীর বিচার করার সময় আইনজীবীরা আইনগতভাবে এই দুটি শাস্তির মধ্যে যেকোনো একটির আবেদন করতে বাধ্য। তবে, দক্ষিণ কোরিয়া প্রায় ৩০ বছর ধরে কোনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেনি; সর্বশেষ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল ১৯৯৬ সালে, যখন প্রাক্তন সামরিক স্বৈরশাসক চুন ডু-হওয়ানকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।
বিচার এবং মৃত্যুদণ্ডের সম্ভাব্য প্রয়োগ জটিল আইনি ও নৈতিক প্রশ্ন উত্থাপন করে। এই মামলাটি রাজনৈতিক ক্ষমতা, আইনি জবাবদিহিতা এবং দক্ষিণ কোরিয়ার ঐতিহাসিক নজিরের মধ্যে চলমান উত্তেজনা তুলে ধরে। আদালতের সিদ্ধান্ত দেশটির রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে অভিযুক্ত নেতাদের সাথে মোকাবিলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।
আদালত আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে রায় ঘোষণা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই সিদ্ধান্তটি দেশীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে, কারণ এটি দক্ষিণ কোরিয়া কীভাবে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক অসদাচরণ এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করার চেষ্টার অভিযোগের মামলাগুলি পরিচালনা করে তার একটি নজির স্থাপন করতে পারে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment