সোমালিয়ার সরকার সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)-এর সাথে সকল চুক্তি বাতিল করেছে। সোমালিয়ার সরকার বলছে, ইউএই সোমালিয়ার আকাশসীমা ব্যবহার করে একজন পলাতক ইয়েমেনি বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতাকে "পাচার" করেছে, যা ছিল "অন্যায্য"। সোমালিয়ার সরকারের মন্ত্রী আলি ওমর এই তথ্য জানিয়েছেন। আলি ওমর আল জাজিরাকে ২০২৩ সালের ১৩ই জানুয়ারি জানান যে, এইদারুস আল-জুবাইদিকে নিয়ে যে ঘটনা ঘটেছে, সেটি দুই দেশের মধ্যে পূর্বে ঘটে যাওয়া বেশ কয়েকটি মতবিরোধের "শেষ পরিণতি"।
মন্ত্রীর এই বিবৃতি সোমালিয়া ও ইউএই-এর মধ্যে সম্পর্কের উল্লেখযোগ্য অবনতিকে তুলে ধরে এবং এর ফলস্বরূপ পূর্বে প্রতিষ্ঠিত চুক্তিগুলো বাতিল করা হয়েছে। এই চুক্তিগুলোর নির্দিষ্ট বিবরণ তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি, তবে এগুলো অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা বিষয়ক বলে মনে করা হচ্ছে।
এইদারুস আল-জুবাইদি ইয়েমেনের বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের একজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। তিনি সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের (এসটিসি) নেতৃত্ব দিচ্ছেন, যা দক্ষিণ ইয়েমেনের স্বাধীনতা চায়। ইউএই কর্তৃক कथितভাবে সোমালিয়ার আকাশসীমায় তার উপস্থিতি সোমালিয়ার সরকারের মধ্যে সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
মন্ত্রী ওমরের করা অভিযোগের বিষয়ে ইউএই এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে, সোমালিয়া ও ইউএই-এর মধ্যে উত্তেজনা কিছু সময় ধরে বাড়ছে, যার প্রধান কারণ হলো ইউএই-এর সোমালিল্যান্ডের বিচ্ছিন্ন অঞ্চলে ক্রমবর্ধমানভাবে জড়িত হওয়া। সোমালিল্যান্ডকে সোমালিয়া তাদের নিজস্ব ভূখণ্ড মনে করে। ইউএই সোমালিল্যান্ডে ব্যাপকভাবে বিনিয়োগ করেছে, যার মধ্যে বারবেরা বন্দরের উন্নয়নও অন্তর্ভুক্ত। এই পদক্ষেপে মোগাদিশুতে অবস্থিত সোমালিয়ার সরকার ক্ষুব্ধ হয়েছে।
সোমালিয়া বারবার ইউএই-এর বিরুদ্ধে তাদের সার্বভৌমত্বকে দুর্বল করা এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার অভিযোগ করেছে। চুক্তি বাতিল করা কূটনৈতিক বিরোধের একটি উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। সোমালিয়ার সরকার আর কী পদক্ষেপ নেবে তা জানায়নি, তবে পরিস্থিতি পরিবর্তনশীল এবং ইউএই-এর প্রতিক্রিয়া ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সম্ভাব্য মধ্যস্থতার মাধ্যমে আরও উন্নয়নের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এই ঘটনা আফ্রিকার শৃঙ্গের জটিল ভূ-রাজনৈতিক গতিশীলতা এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মধ্যেকার প্রতিদ্বন্দ্বী স্বার্থকে তুলে ধরে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment