সোমালিয়ার সরকার কর্তৃক সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) সাথে সকল চুক্তি বাতিলের কারণ হিসেবে দেশটির সরকার মন্ত্রী আলি ওমর জানান, ইউএই কর্তৃক সোমালিয়ার আকাশসীমা ব্যবহার করে একজন পলাতক ইয়েমেনি বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতাকে "পাচার" করার অভিযোগ আনা হয়েছে। আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওমর বলেন, সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এসটিসি)-এর নেতা এইদারোস আল-জুবাইদিকে নিয়ে যে ঘটনা ঘটেছে, তা দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের অবনতির ধারাবাহিকতায় "শেষ পেরেক" হিসেবে কাজ করেছে।
সোমালিয়ার সরকার তাদের আকাশসীমার এই অননুমোদিত ব্যবহারকে তাদের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন এবং কূটনৈতিক প্রোটোকলের breach হিসেবে দেখেছে। ওমরের বক্তব্যে সুনির্দিষ্টভাবে এই ঘটনা কবে ঘটেছে তা উল্লেখ করা হয়নি, তবে চুক্তি বাতিলের ক্ষেত্রে এর গুরুত্বের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এই চুক্তিগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, নিরাপত্তা এবং বন্দর ব্যবস্থাপনা সহ বিভিন্ন খাত অন্তর্ভুক্ত ছিল।
সোমালিয়ার আকাশসীমা ব্যবহার করে আল-জুবাইদিকে পরিবহণ করার নির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে ইউএই এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে, ইউএই এর আগে সোমালিয়ায় তাদের কার্যকলাপের পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেছে যে, তাদের কার্যক্রমের লক্ষ্য ছিল জলদস্যুতা মোকাবেলা করা এবং দেশটির সরকারকে স্থিতিশীল করতে সহায়তা করা। ইউএই সোমালিয়ার অবকাঠামো খাতে, বিশেষ করে বন্দর খাতে একটি প্রধান বিনিয়োগকারী দেশ।
আল-জুবাইদির নেতৃত্বাধীন সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এসটিসি) দক্ষিণ ইয়েমেনের স্বাধীনতা চায়। অতীতে ইউএই কর্তৃক এই STC-কে সমর্থন করা হয়েছে, যা ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াই করা বৃহত্তর জোটের অংশ ছিল। তবে, এসটিসির বিচ্ছিন্নতাবাদী আকাঙ্ক্ষা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেনি সরকারের সাথে তাদের বিরোধ সৃষ্টি করেছে।
চুক্তি বাতিল সোমালিয়া ও ইউএই-এর মধ্যে সম্পর্কের একটি উল্লেখযোগ্য অবনতি নির্দেশ করে। এই পদক্ষেপ সোমালিয়ার অর্থনীতি, নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক রাজনীতিতে দেশটির ভূমিকার ওপর সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে। বিশ্লেষকরা মনে করেন যে, সোমালিয়ার সরকারের এই সিদ্ধান্ত তাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ক্রমবর্ধমান দৃঢ়তা এবং অংশীদারিত্বকে বহুমুখী করার আকাঙ্ক্ষাকে প্রতিফলিত করে। সোমালিয়া ও ইউএই-এর মধ্যে সম্পর্কের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত, এবং উভয় দেশই এই অঞ্চলে তাদের কৌশলগত স্বার্থ পুনর্মূল্যায়ন করায় আরও নতুন ঘটনা প্রত্যাশিত।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment