সিরিয়ার একটি হাইকিং ক্লাব দেশটির প্রাকৃতিক দৃশ্য এবং ঐতিহাসিক স্থানগুলি ঘুরে দেখছে, যা একটি বিধ্বংসী গৃহযুদ্ধের পরে নতুন করে আবিষ্কারের অনুভূতি দিচ্ছে। "মি দ্য সিরিয়ান" নামে পরিচিত দলটি সম্প্রতি দামেস্ক থেকে প্রায় ৫০ মাইল উত্তরে আল-নাবকের কাছে অবস্থিত দেইর মার মুসা নামক প্রাচীন মঠের উদ্দেশ্যে একটি হাইকিংয়ের আয়োজন করে।
মধ্য সিরিয়ার পাহাড়ে নির্মিত ষষ্ঠ শতাব্দীর এই মঠের হাইকিংয়ে অংশ নিতে সারাদেশ থেকে মানুষ এসেছিল। দামেস্কের ২৪ বছর বয়সী কারুশিল্পী আরেজ মিরোও সেই দুর্গম মরুভূমির পথ পেরিয়ে গিয়েছিলেন। একজন প্রত্যক্ষদর্শীর মতে, "তাদের উজ্জ্বল লাল টি-শার্টগুলি চারপাশের বেইজ রঙের ধুলোর বিপরীতে একটি স্পষ্ট বৈপরীত্য তৈরি করেছিল।"
সিরিয়ার প্রায় ১৪ বছর ধরে চলা গৃহযুদ্ধ এক বছরের কিছু বেশি সময় আগে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছে, যা ধ্বংস ও বাস্তুচ্যুতির চিহ্ন রেখে গেছে। আরব বসন্তের উত্থানের পর মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তনের অংশ এই সংঘাত আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শক্তিকে আকৃষ্ট করে, মানবিক সংকটকে আরও বাড়িয়ে তোলে এবং ব্যাপক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে। যুদ্ধের প্রভাব সিরিয়ার সীমানা ছাড়িয়ে ইউরোপ এবং প্রতিবেশী দেশগুলিতে শরণার্থী প্রবাহে অবদান রাখে এবং চরমপন্থী গোষ্ঠীর উত্থান নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায়।
হাইকিং দলের গন্তব্য দেইর মার মুসা সিরিয়ার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে তাৎপর্যপূর্ণ। দেইর মার মুসার মতো মঠগুলি ঐতিহাসিকভাবে এই অঞ্চলে আন্তঃধর্মীয় সংলাপ এবং সহাবস্থানের কেন্দ্র হিসাবে কাজ করেছে, যা সাম্প্রতিক সংঘাতের আগের সহনশীলতার ঐতিহ্যকে প্রতিফলিত করে। মঠেরRemote অবস্থান শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে আশ্রয় এবং আধ্যাত্মিক সান্ত্বনা দিয়েছে।
"মি দ্য সিরিয়ান"-এর মতো হাইকিং ক্লাবগুলির উত্থান সংঘাতের বছরগুলোর পর সিরিয়ার নাগরিকদের তাদের দেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং ঐতিহাসিক শিকড়ের সাথে পুনরায় সংযোগ স্থাপনের আকাঙ্ক্ষাকে প্রতিফলিত করে। এই উদ্যোগগুলি বিনোদন, সম্প্রদায় তৈরি এবং জাতীয় পরিচয়ের একটি নতুন অনুভূতি প্রদান করে। সিরিয়া যখন তার পুনরুদ্ধার অব্যাহত রেখেছে, তখন এই ধরনের তৃণমূল প্রচেষ্টা সামাজিক সংহতি জোরদার করতে এবং ভবিষ্যতের জন্য একটি সম্মিলিত দৃষ্টিভঙ্গি প্রচারে ভূমিকা রাখে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment