আন্তর্জাতিক সম্পাদক জেরেমি বোয়েন উল্লেখ করেছেন যে স্বৈরাচারী শাসনগুলো আর্নেস্ট হেমিংওয়ের দেউলিয়াত্বের বর্ণনার মতো ধসে পড়ে: ধীরে ধীরে, তারপর হঠাৎ করেই। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে ইরান উল্লেখযোগ্য অভ্যন্তরীণ এবং বাহ্যিক চাপের সম্মুখীন হলেও, এটি এখনও আকস্মিক পতনের পর্যায়ে পৌঁছায়নি। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোর অস্থিরতা ইরানি জনগণের মধ্যে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ এবং হতাশার কারণে সৃষ্ট, যা ইরানি শাসনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকট তৈরি করেছে।
বোয়েন উল্লেখ করেছেন যে বিগত দুই বছরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের দ্বারা ইরানের উপর চাপানো সামরিক বিপর্যয় বর্তমান অস্থিরতাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, নিষেধাজ্ঞার প্রভাবে জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ে জর্জরিত ইরানিরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যুক্তরাজ্য, জার্মানি এবং ফ্রান্স কর্তৃক ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তির অধীনে পূর্বে তুলে নেওয়া সমস্ত জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা পুনরায় আরোপ করার কারণে ইরানের অর্থনীতি আরও চাপের মধ্যে পড়েছে। ২০১৫ সালে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৭০% ছাড়িয়ে যায় এবং ডিসেম্বরে ইরানি মুদ্রা রিয়াল সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছেছিল।
২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি, আনুষ্ঠানিকভাবে জয়েন্ট কম্প্রিহেনসিভ প্ল্যান অফ অ্যাকশন (JCPOA) নামে পরিচিত, ইরান এবং P5+1 (জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য - চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র - এবং জার্মানি) এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে একটি চুক্তি ছিল। এর লক্ষ্য ছিল অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করা। তবে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ২০১৮ সালে ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে JCPOA থেকে একতরফাভাবে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেয় এবং ইরানের উপর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করে।
ইরানের শাসনের উপর প্রচণ্ড চাপ থাকা সত্ত্বেও, বোয়েন মনে করেন পরিস্থিতি এখনও চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। বিক্ষোভ তাৎপর্যপূর্ণ হলেও, সরকার উৎখাত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যাপক এবং অবিরাম গতি এখনও দেখা যায়নি। ইরানি সরকার বিক্ষোভের প্রতিক্রিয়া হিসেবে শক্তি ব্যবহার করেছে, যা সহিংস দমন-পীড়নের চিত্রিত ভিডিওগুলোতে স্পষ্ট। ভিন্নমত দমন এবং মূল প্রতিষ্ঠানগুলোর উপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার ক্ষমতা দেশটির টিকে থাকার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
ইরানের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের দৃশ্যপট এখনও অনিশ্চিত। যদিও শাসনটি যথেষ্ট চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, তবে এর স্থিতিস্থাপকতা এবং অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক কারণগুলোর জটিল পারস্পরিক ক্রিয়া নির্ধারণ করবে যে এটি ধীরে ধীরে পতনের পথে চলতে থাকবে নাকি আরও আকস্মিক এবং নাটকীয় পতনের অভিজ্ঞতা লাভ করবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে, ইরানের অভ্যন্তরীণ নীতি এবং আঞ্চলিক কার্যক্রম দ্বারা সৃষ্ট চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলার সর্বোত্তম উপায় নিয়ে বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment