যুক্তরাজ্যে কর্মীদের কাজের অধিকার প্রমাণের জন্য একটি ডিজিটাল আইডি ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা আরোপের পরিকল্পনা সরকার বাতিল করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের খবর। এই নীতি পরিবর্তনের অর্থ হলো, ২০২৯ সালের মধ্যে কাজের অধিকার বিষয়ক যাচাই প্রক্রিয়া ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্পন্ন করা হবে এবং এক্ষেত্রে বায়োমেট্রিক পাসপোর্ট ব্যবহারের সম্ভাবনা থাকলেও নতুন ডিজিটাল আইডি প্রোগ্রামে নিবন্ধন করা ঐচ্ছিক থাকবে।
এই সিদ্ধান্তটি গত বছর সরকারের নেওয়া প্রাথমিক অবস্থানের বিপরীত। গত বছর প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ের স্টারমার ঘোষণা করেছিলেন যে, ডিজিটাল আইডি হবে যুক্তরাজ্যে চাকরির পূর্বশর্ত। স্টারমার সে সময় বলেছিলেন, "ডিজিটাল আইডি না থাকলে আপনি যুক্তরাজ্যে কাজ করতে পারবেন না। বিষয়টি খুবই সহজ।"
কনজারভেটিভ দলের নেতা কেমি ব্যাডেনোচ এই পরিবর্তনকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি আগের নীতিটিকে "ভয়ঙ্কর" আখ্যা দিয়ে বর্তমান পদক্ষেপকে লেবার সরকারের "আরেকটি ইউ-টার্ন" হিসেবে বর্ণনা করেছেন। বাধ্যতামূলক ডিজিটাল আইডি বাতিল করার এই সিদ্ধান্তের সাথে সরকারের আরও কিছু নীতি পরিবর্তন যুক্ত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে কল্যাণ সংস্কার, শীতকালীন জ্বালানি ভাতা এবং কৃষকদের জন্য উত্তরাধিকার কর বিধিগুলির সংশোধন।
সরকার প্রাথমিকভাবে যুক্তি দিয়েছিল যে, কর্মীদের জন্য বাধ্যতামূলক ডিজিটাল আইডি যাচাইকরণ প্রক্রিয়াকে সুগম করার মাধ্যমে অবৈধ অভিবাসন মোকাবিলার প্রচেষ্টা জোরদার করবে। প্রাথমিকভাবে পরিকল্পিত এই প্রকল্পের লক্ষ্য ছিল কাজের অধিকার বিষয়ক যাচাইকরণ প্রক্রিয়াকে সহজ এবং দ্রুত করা, যাতে যথাযথ অনুমোদন ছাড়া কোনো ব্যক্তির চাকরি পাওয়া কঠিন হয়ে যায়।
ডিজিটাল আইডি প্রোগ্রামের বর্তমান অবস্থা ঐচ্ছিক নিবন্ধনের উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ রেখেছে। সরকার এখনও পর্যন্ত স্বেচ্ছায় অংশগ্রহণে উৎসাহিত করার জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা বা নিবন্ধন করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের জন্য কী ধরনের প্রণোদনা দেওয়া হতে পারে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি। ডিজিটাল কাজের অধিকার বিষয়ক যাচাইকরণ ব্যবস্থা চালু এবং বাস্তবায়নের বিষয়ে আগামী মাসগুলোতে আরও ঘোষণা আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment