বৃহস্পতিবার উগান্ডাতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে ক্ষমতাসীন রাষ্ট্রপতি ইওয়েরি মুসেভেনি চতুর্থ দশকের জন্য তাঁর শাসনকাল বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। এই নির্বাচনে মুসেভেনির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন সঙ্গীতশিল্পী থেকে রাজনীতিবিদ বনে যাওয়া ববি ওয়াইন, যাঁর সমর্থকেরা ভোটের আগে হয়রানি ও ভয় দেখানোর অভিযোগ করেছেন।
এই নির্বাচনের ফলাফল উগান্ডার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যে দেশটি বিশ্বের অন্যতম তরুণ জনসংখ্যার দেশ। আফ্রিকার বিষয়গুলোর ভাষ্যকার জোসেফ ওচিয়েনোর মতে, এই নির্বাচন দেশটির ভবিষ্যতের গতিপথের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। ওচিয়েনো বলেন, "এই নির্বাচন শুধুমাত্র কে রাষ্ট্রপতি হবেন, তা নিয়ে নয়। এটি উগান্ডা শাসন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং সামাজিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে কোন পথে চলবে, তা নিয়ে।"
ববি ওয়াইনের (যার আসল নাম রবার্ট কিয়াগুলানি সেন্টামু) সমর্থকেরা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ভোটারদের দমনের অভিযোগ, নির্বিচারে গ্রেপ্তার এবং প্রচারণার ওপর বিধিনিষেধ ব্যাপকভাবে দেখা গেছে। দ্য ব্যাড নেটিভস পডকাস্টের হোস্ট রবার্ট কাবুশেঙ্গা নির্বাচনকে ঘিরে বেড়ে যাওয়া উত্তেজনা ও উদ্বেগের কথা উল্লেখ করেছেন। কাবুশেঙ্গা বলেন, "অনেক উগান্ডার মানুষের মধ্যে একটা স্পষ্ট অস্বস্তি রয়েছে। মানুষ সহিংসতা এবং গণতান্ত্রিক নীতিগুলোর দুর্বল হয়ে যাওয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন।"
মুসেভেনি, যিনি ১৯৮৬ সাল থেকে ক্ষমতায় আছেন, তিনি দাবি করেন যে তাঁর নেতৃত্ব উগান্ডাতে স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে এসেছে। তিনি ধারাবাহিকতার প্ল্যাটফর্মে প্রচারণা চালিয়েছেন, যেখানে দেশ পরিচালনায় তাঁর অভিজ্ঞতা ও সাফল্যের ওপর জোর দিয়েছেন। তবে সমালোচকরা বলছেন যে মুসেভেনির দীর্ঘ tenure-এর কারণে দুর্নীতি, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং রাজনৈতিক ভিন্নমতের কণ্ঠরোধ বেড়েছে।
ইউরোপীয় কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের আফ্রিকা প্রোগ্রামের পরিচালক অ্যালেক্স ভাইন্স নির্বাচনের আঞ্চলিক প্রভাবের ওপর জোর দিয়েছেন। ভাইন্স ব্যাখ্যা করেন, "পূর্ব আফ্রিকার নিরাপত্তা কাঠামোতে উগান্ডা একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই নির্বাচনের ফলাফল আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও সহযোগিতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরিণতি ডেকে আনতে পারে।"
দেশজুড়ে সরকার সামরিক ও পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করার কারণে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইন্টারনেটও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, যা স্বচ্ছতা এবং নাগরিকদের তথ্য পাওয়ার ক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। নির্বাচন কমিশন আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। নির্বাচনের পরবর্তী পরিস্থিতি সম্ভবত দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক উভয়ই ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন, যেখানে প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং বিক্ষোভ বা অস্থিরতার সম্ভাবনার দিকে নজর রাখা হবে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment