চীনের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ২০২৫ সালে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে, যা দেশটির রপ্তানি আধিপত্যের ক্রমাগত ঊর্ধ্বগতি নির্দেশ করে। দেশটির জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অফ কাস্টমস বুধবার ঘোষণা করেছে যে উদ্বৃত্তের পরিমাণ ১.১৯ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা ২০২৪ সালের তুলনায় ২০% বেশি এবং মুদ্রাস্ফীতি সমন্বিত করার পরেও সর্বকালের সর্বোচ্চ।
শুধু ডিসেম্বরের উদ্বৃত্তের পরিমাণ ১১৪.১৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় রপ্তানি বৃদ্ধির কারণে হয়েছে। এই সংখ্যাটি তৃতীয় সর্বোচ্চ মাসিক উদ্বৃত্ত, যা শুধুমাত্র একই বছরের জানুয়ারি এবং জুন মাসের উদ্বৃত্তকে ছাড়িয়ে গেছে। নভেম্বরের শেষ নাগাদ সামগ্রিক উদ্বৃত্ত ১ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল, যা বছরজুড়ে চীনা রপ্তানির অব্যাহত গতিশীলতা প্রদর্শন করে।
রপ্তানির এই উল্লম্ফন বিশ্ব বাজারে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে। যদিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শুল্কের লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চীনের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত কমানো, তবে এর সামগ্রিক প্রভাব ছিল সীমিত। শুল্কের কারণে ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে উদ্বৃত্ত ২২% কমেছে। তবে, চীনা উৎপাদনকারীরা সফলভাবে তাদের রপ্তানি অন্যান্য অঞ্চলে পুনর্নির্দেশিত করেছে, যার ফলে শুল্কের প্রভাব হ্রাস পেয়েছে। কিছু কোম্পানি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং অন্যান্য স্থান দিয়ে পণ্য পাঠানোর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে শুল্ক ফাঁকি দিয়েছে।
এই রেকর্ড বাণিজ্য উদ্বৃত্ত চীনের উৎপাদন খাতের শক্তি এবং পরিবর্তিত বিশ্ব বাণিজ্য পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার ক্ষমতাকে তুলে ধরে। চীনা কোম্পানিগুলো উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো এবং তাদের পণ্যের গুণমান উন্নত করার জন্য প্রচুর বিনিয়োগ করেছে, যা তাদের আন্তর্জাতিক বাজারে আরও বেশি প্রতিযোগিতামূলক করে তুলেছে। এর ফলে বাণিজ্য বাধা সত্ত্বেও তারা বিশ্ব চাহিদার একটি বৃহত্তর অংশ দখল করতে সক্ষম হয়েছে।
সামনের দিকে তাকালে, চীনের বাণিজ্য উদ্বৃত্তের ভবিষ্যৎ গতিপথ বেশ কয়েকটি কারণের উপর নির্ভর করবে, যার মধ্যে রয়েছে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি, বাণিজ্য নীতি এবং প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন। যদিও দেশটির রপ্তানি যন্ত্র ধীর হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না, তবে বাণিজ্য অংশীদারদের কাছ থেকে ক্রমবর্ধমান নজরদারি এবং বিশ্ব চাহিদার সম্ভাব্য পরিবর্তন আগামী বছরগুলোতে চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment