পূর্ব ইউরোপে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে পোল্যান্ড থেকে একটি কঠোর মূল্যায়ন উঠে এসেছে: শুধুমাত্র ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে ভ্লাদিমির পুতিনের আগ্রাসন থামানোর ক্ষমতা আছে। বিবিসির সাথে একটি বিশেষ সাক্ষাৎকারে পোলিশ প্রেসিডেন্ট কারোল নাভরোকি এই দৃঢ় বিশ্বাস ব্যক্ত করেছেন যে, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্টের হাতেই সংকট নিরসন এবং অঞ্চলের স্থিতিশীলতা রক্ষার মূল চাবিকাঠি রয়েছে।
প্রেসিডেন্ট নাভরোকির এই ঘোষণা এমন এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে এসেছে। ইউক্রেনে যুদ্ধ চলতেই রয়েছে এবং পোল্যান্ড সহ প্রতিবেশী দেশগুলোতে উদ্বেগ বাড়ছে, যেগুলোর ইউক্রেন এবং রাশিয়ার মিত্র বেলারুশের সাথে সীমান্ত রয়েছে। পোলিশ নেতার ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন, যিনি তার অপ্রচলিত কূটনৈতিক পদ্ধতির জন্য পরিচিত, পোলিশ সরকারের মধ্যেকার বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগকে তুলে ধরে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের একজন দৃঢ় সমর্থক হিসেবে পরিচিত নাভরোকি পরিস্থিতির গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন এবং রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান দৃঢ়তার কথা তুলে ধরেছেন। তিনি গত সেপ্টেম্বরের ড্রোন অনুপ্রবেশের কথা উল্লেখ করেন, যখন বেলারুশ এবং ইউক্রেন থেকে ২০টিরও বেশি মনুষ্যবিহীন বিমান পোলিশ আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছিল, যা ছিল একটি ইচ্ছাকৃত উস্কানি। তিনি বলেন, "ততক্ষণ পর্যন্ত কোনো ন্যাটো সদস্য রাষ্ট্র এত বড় পরিসরে ড্রোন হামলার শিকার হয়নি।" তিনি এটিকে "একটি অসাধারণ পরিস্থিতি" এবং পোল্যান্ডের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পরীক্ষার জন্য রাশিয়ার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেন।
পোলিশ প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্য রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও পররাষ্ট্রনীতি বিশেষজ্ঞদের মধ্যে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। কেউ কেউ ট্রাম্পের প্রতি তার সমর্থনকে পুতিনের সঙ্গে আলোচনার ক্ষেত্রে সাবেক প্রেসিডেন্টের অনন্য ক্ষমতার বাস্তবসম্মত স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন, যেখানে তারা রুশ নেতার সঙ্গে ট্রাম্পের অতীতের যোগাযোগের কথা উল্লেখ করেছেন। আবার কেউ কেউ সংশয় প্রকাশ করে প্রশ্ন তুলেছেন যে, ট্রাম্পের এই পদ্ধতি দীর্ঘস্থায়ী ফল দেবে কিনা বা বিদ্যমান জোটগুলোকে অস্থিতিশীল করে তুলবে কিনা।
ওয়ারশ বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. আনিয়া কোয়ালস্কা বলেন, "নাভরোকির বক্তব্য হতাশার প্রতিফলন।" "পোল্যান্ড ক্রমশ দুর্বল বোধ করছে এবং তারা ট্রাম্পকে এমন একজন ব্যক্তি হিসেবে দেখছে যিনি ভিন্ন পথে হাঁটতে রাজি হতে পারেন, এমনকি সেটি ঝুঁকিপূর্ণ হলেও।"
তবে ড. কোয়ালস্কা কোনো একজন ব্যক্তির ওপর অতিরিক্ত আস্থা রাখার বিষয়ে সতর্ক করেছেন। তিনি আরো বলেন, "রাশিয়ার পক্ষ থেকে আসা চ্যালেঞ্জগুলো জটিল এবং এর জন্য শক্তিশালী জোট, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং শক্তিশালী সামরিক প্রতিরোধের মতো বহুবিধ পদ্ধতির প্রয়োজন।" "তাদের অনুভূত প্রভাব নির্বিশেষে, শুধুমাত্র একজন নেতার ওপর নির্ভর করা একটি জুয়া খেলার মতো।"
পোলিশ সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি ভূ-রাজনৈতিক দুর্বলতার দীর্ঘ ইতিহাসের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে। শক্তিশালী প্রতিবেশীদের মধ্যে অবস্থিত পোল্যান্ড প্রায়শই সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ইউক্রেনের বর্তমান সংকট এই ঐতিহাসিক উদ্বেগগুলোকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে, যার ফলে ওয়ারশ তার মিত্রদের কাছ থেকে পুনরায় আশ্বাস চাইছে এবং সংকট নিরসনের জন্য সম্ভাব্য সকল উপায় খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।
প্রেসিডেন্ট নাভরোকির মন্তব্য যথেষ্ট মনোযোগ আকর্ষণ করলেও সামনের পথ এখনও অনিশ্চিত। পোলিশ প্রেসিডেন্ট যেমনটা ইঙ্গিত দিয়েছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প সত্যিই "এই সমস্যার সমাধান" করতে পারবেন কিনা, তা সম্ভবত আগামী মাসগুলোতে পরীক্ষিত হবে। আন্তর্জাতিক মহল শ্বাসরুদ্ধ করে তাকিয়ে আছে, পূর্ব ইউরোপে শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য একটি সমাধানের আশায়।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment