মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তার মতে, ভেনেজুয়েলা তার কারাগার থেকে মার্কিন নাগরিকদের মুক্তি দিতে শুরু করেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, তবে মুক্তিপ্রাপ্ত আমেরিকানদের পরিচয় বা সঠিক সংখ্যা উল্লেখ করেননি। কর্মকর্তা এই পদক্ষেপকে "অস্থায়ী কর্তৃপক্ষের দ্বারা সঠিক পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ" হিসাবে বর্ণনা করেছেন।
কারাকাসে ৩ জানুয়ারি মার্কিন সামরিক অভিযানে নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রীকে আটকের পর থেকে এই প্রথম কোনো আমেরিকান নাগরিকের মুক্তির ঘটনা ঘটল। তারা এখন নিউইয়র্কে মাদক পাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত। ভেনেজুয়েলার সরকার, বর্তমানে অন্তর্বর্তীকালীন রাষ্ট্রপতি ডেলসি রদ্রিগেজের নেতৃত্বে, গত সপ্তাহে "সদিচ্ছা"র নিদর্শন হিসেবে রাজনৈতিক বন্দী হিসেবে বিবেচিত "উল্লেখযোগ্য" সংখ্যক ব্যক্তিকে মুক্তি দেওয়ার অভিপ্রায় ঘোষণা করেছে।
জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভেনেজুয়েলা প্রায় ৫০ জন বন্দীকে মুক্তি দিয়েছে। মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলোর অনুমান, প্রায় ৮০০ রাজনৈতিক বন্দী এখনও দেশটির কারাগারে রয়েছেন। আমেরিকান নাগরিক ছাড়াও, কিছু দেশীয় বিরোধী ব্যক্তিত্ব এবং কমপক্ষে পাঁচজন স্প্যানিশ নাগরিককে মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের আটক এবং মানবাধিকার রেকর্ডের বিষয়ে ভেনেজুয়েলার উপর ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক চাপের পরেই এই মুক্তি দেওয়া হল। ভেনেজুয়েলার কর্মকর্তাদের সঙ্গে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের আলোচনার পরপরই "সদিচ্ছা"র নিদর্শনস্বরূপ এই ঘোষণা আসে।
ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি এখনও জটিল, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ অব্যাহত রয়েছে। বন্দীদের মুক্তিকে কেউ কেউ ইতিবাচক লক্ষণ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ এটিকে অস্থায়ী সরকারের আন্তর্জাতিক অবস্থান উন্নত করার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখে সন্দিহান রয়েছেন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তার বিবৃতি একটি সতর্ক আশাবাদ নির্দেশ করে, যেখানে ভেনেজুয়েলার মধ্যে মানবাধিকার উদ্বেগ নিরসনে আরও অগ্রগতির প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। মুক্তি কার্যক্রম চলছে, এবং মুক্তিপ্রাপ্তদের পরিচয় এবং তাদের মুক্তির শর্তাবলী সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য আগামী দিনে পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment