গুগলের নতুন ঘোষিত এআই-চালিত শপিং এজেন্টদের জন্য ইউনিভার্সাল কমার্স প্রোটোকল (Universal Commerce Protocol) নিয়ে একটি ভোক্তা অধিকার বিষয়ক নজরদারি সংস্থা এই সপ্তাহে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের অভিযোগ, এই সিস্টেম ব্যক্তিগতকৃত আপসেলিং (personalized upselling) এবং সম্ভবত গ্রাহকদের কাছ থেকে বেশি অর্থ আদায় করতে পারে। গ্রাউন্ডওয়ার্ক কোলাবোরেটিভের (Groundwork Collaborative) নির্বাহী পরিচালক লিন্ডসে ওয়েন্স X-এ একটি পোস্টে তার উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন, যা প্রায় ৪ লক্ষ বার দেখা হয়েছে।
ওয়েন্স বলেছেন, গুগল তার এআই পরিষেবাগুলোতে (যেমন সার্চ এবং জেমিনি) শপিংকে অন্তর্ভুক্ত করার যে পরিকল্পনা করেছে, তাতে ব্যবহারকারীর চ্যাট ডেটা বিশ্লেষণ করে ব্যক্তিগতকৃত আপসেলিংয়ের বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তিনি গুগলের রোডম্যাপের (roadmap) দিকে ইঙ্গিত করেছেন, যেখানে আপসেলিংয়ের সমর্থনকারী বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা সম্ভবত ব্যবসায়ীদের এআই শপিং এজেন্টদের কাছে আরও দামি পণ্য প্রচার করার অনুমতি দেবে। এছাড়াও তিনি নতুন সদস্যের জন্য ছাড় বা লয়্যালটি-ভিত্তিক মূল্য নির্ধারণের মতো প্রোগ্রামগুলোর জন্য গুগল কর্তৃক মূল্য পরিবর্তনের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন, যা গুগল-এর সিইও সুন্দর পিচাই ন্যাশনাল রিটেইল ফেডারেশন (National Retail Federation) সম্মেলনে বর্ণনা করেছিলেন।
ইউনিভার্সাল কমার্স প্রোটোকল এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে, যাতে এআই শপিং এজেন্টরা অনলাইন রিটেইলারদের (online retailers) সঙ্গে একটি স্ট্যান্ডার্ড পদ্ধতিতে যোগাযোগ করতে পারে। এর লক্ষ্য হল এমন একটি মসৃণ অভিজ্ঞতা তৈরি করা, যেখানে এআই বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ব্যবহারকারীদের পণ্য খুঁজে পেতে এবং কিনতে সাহায্য করতে পারে। তবে ওয়েন্সের মতো সমালোচকরা কারসাজি এবং অন্যায্য মূল্যের চর্চা নিয়ে উদ্বিগ্ন।
ওয়েন্সের অভিযোগের জবাবে গুগল X-এ প্রকাশ্যে এবং টেকক্রাঞ্চকে (TechCrunch) সরাসরি জানিয়েছে। কোম্পানিটি তাদের প্রোটোকলের পক্ষ সমর্থন করে বলেছে, এটি একটি আরও দক্ষ এবং ব্যক্তিগতকৃত কেনাকাটার অভিজ্ঞতা তৈরি করার মাধ্যমে ভোক্তা এবং খুচরা বিক্রেতা উভয়েরই উপকারে আসবে। গুগল জানিয়েছে যে এই সিস্টেমটি অন্যায়ভাবে গ্রাহকদের কাছ থেকে বেশি অর্থ আদায়ের জন্য ব্যবহার করা হবে না।
বিতর্কের মূল বিষয় হল "ব্যক্তিগতকৃত আপসেলিং"-এর ধারণা। এআই-চালিত বাণিজ্যে, এর অর্থ হল ব্যবহারকারীর পছন্দ, অতীতের কেনাকাটা এবং এমনকি রিয়েল-টাইম (real-time) কথোপকথন সম্পর্কে ডেটা ব্যবহার করে আরও দামি বা প্রিমিয়াম (premium) পণ্য প্রস্তাব করা। এটি সেইসব গ্রাহকদের জন্য সহায়ক হতে পারে, যারা সেরা সম্ভাব্য বিকল্প খুঁজছেন, তবে এটি সম্ভাব্য শোষণ সম্পর্কেও উদ্বেগ সৃষ্টি করে।
শপিংয়ে এআই-এর ব্যবহার দ্রুত বিকাশমান একটি ক্ষেত্র, এবং গুগল ইউনিভার্সাল কমার্স প্রোটোকল হল প্রক্রিয়াটিকে স্ট্যান্ডার্ড করার প্রথম প্রধান প্রচেষ্টাগুলোর মধ্যে একটি। যেহেতু এআই আমাদের দৈনন্দিন জীবনে আরও বেশি করে যুক্ত হচ্ছে, তাই এই প্রযুক্তিগুলোর নৈতিক প্রভাব সম্পর্কে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। গ্রাউন্ডওয়ার্ক কোলাবোরেটিভের মতো ভোক্তা অধিকার বিষয়ক সংস্থাগুলো এটি নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যে এই প্রযুক্তিগুলো যেন সবার উপকারে আসে।
ইউনিভার্সাল কমার্স প্রোটোকলের বর্তমান অবস্থা হল এটি এখনও উন্নয়নের অধীনে রয়েছে। গুগল সম্ভবত খুচরা বিক্রেতা, ভোক্তা এবং অধিকার বিষয়ক সংস্থাগুলোর কাছ থেকে পাওয়া মতামতের ভিত্তিতে প্রোটোকলটিকে আরও পরিমার্জন করতে থাকবে। পরবর্তী উন্নয়নগুলোতে সম্ভবত সিস্টেমটির আরও পরীক্ষা এবং পরিমার্জন, সেইসাথে এআই-চালিত শপিংয়ের নৈতিক প্রভাব নিয়ে চলমান আলোচনা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment