ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান দেশটির অর্থনৈতিক সংকট ও অভ্যন্তরীণ নীতির বিরুদ্ধে চলমান বিক্ষোভের জন্য বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা, বিশেষ করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাকে অভিযুক্ত করেছেন। সোমবার রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি-তে দেওয়া বক্তব্যে পেজেশকিয়ান জোর দিয়ে বলেন, এই বিদেশি অভিনেতারা সেই একই সত্তা যারা জুনে ইসরায়েলের ১২ দিনের যুদ্ধের সময় ইরানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের জন্য দায়ী ছিল।
প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্য সরকারের ভাষ্যের একটি পরিবর্তন, যা দুর্বল অর্থনীতি এবং ভিন্নমতের দমন-পীড়নের মতো অভ্যন্তরীণ সমস্যা থেকে সরে গিয়ে অস্থিরতার জন্য বাইরের শক্তিকে দায়ী করছে। ইরানের মুদ্রার পতন এবং বৃহত্তর অর্থনৈতিক অসন্তোষের প্রতিক্রিয়ায় প্রাথমিকভাবে এই বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল, যা এখনও চলছে।
ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের জন্য বিদেশি শক্তি, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে অভিযুক্ত করার ইতিহাস রয়েছে। দুটি দেশেরই ইসলামিক রিপাবলিকের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বৈরী সম্পর্ক বিদ্যমান। ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা বিশেষভাবে বেশি, উভয় দেশই সাইবার হামলা ও কথিত নাশকতার সঙ্গে জড়িত একটি ছায়াযুদ্ধে লিপ্ত। পরপর কয়েকটি মার্কিন প্রশাসন ইরানের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, যা দেশটির অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিয়েছে এবং জনগণের মধ্যে অসন্তোষ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
এমন এক সময়ে এই অভিযোগগুলো এসেছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বেড়েছে। ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি, যা আনুষ্ঠানিকভাবে জয়েন্ট কম্প্রিহেনসিভ প্ল্যান অফ অ্যাকশন (জেসিপিওএ) নামে পরিচিত, তা ভেঙে যাওয়ায় ইরান ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্ক আরও খারাপ হয়েছে। জেসিপিওএ, যা নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তির বিনিময়ে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে সীমিত করেছিল, ২০১৮ সালে ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে যুক্তরাষ্ট্র তা বাতিল করে দেয়। চুক্তিটি পুনরুজ্জীবিত করার প্রচেষ্টা এখন পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, ইরানি সরকারের বিদেশি হস্তক্ষেপের উপর মনোযোগ দেওয়াটা অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ থেকে দৃষ্টি সরিয়ে নিজেদের ভিত্তিকে সুসংহত করার একটি প্রচেষ্টা। তবে সমালোচকরা বলছেন, এ ধরনের অভিযোগ ইরানি জনগণের বৈধ অভাব-অভিযোগগুলো মোকাবিলা করতে ব্যর্থ, যারা অর্থনৈতিক কষ্ট ও রাজনৈতিক স্বাধীনতার অভাবে ভুগছেন। বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে এবং সরকারের প্রতিক্রিয়া আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন, যারা আরও উত্তেজনা এবং সহিংসতার আশঙ্কা করছেন।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment