একটি বৃহৎ আকারের আন্তর্জাতিক মস্তিষ্ক বিষয়ক গবেষণা প্রকাশ করেছে যে বয়স-জনিত স্মৃতিভ্রংশ মস্তিষ্কের কোনো একটি নির্দিষ্ট অঞ্চল বা জিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বরং পুরো মস্তিষ্কের ব্যাপক কাঠামোগত পরিবর্তনের সাথে সম্পর্কিত। হিব্রু সিনিয়রলাইফ হিন্ডা এবং আর্থার মার্কাস ইনস্টিটিউট ফর এজিং রিসার্চের গবেষকরা, সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের থেকে নেওয়া হাজার হাজার এমআরআই স্ক্যান এবং স্মৃতি পরীক্ষার বিশ্লেষণ করে দেখেছেন যে মস্তিষ্কের টিস্যু সঙ্কুচিত হওয়ার সাথে সাথে স্মৃতি হ্রাসের হার দ্রুত বৃদ্ধি পায়, বিশেষ করে জীবনের পরবর্তী পর্যায়ে। ২০২৬ সালের ১৪ই জানুয়ারী প্রকাশিত এই ফলাফল, বয়স-জনিত স্মৃতিভ্রংশ বিষয়ক পূর্বের স্থানীয় ধারণাগুলোকে চ্যালেঞ্জ করে।
গবেষণায় ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে স্মৃতিশক্তির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঞ্চল হিপ্পোক্যাম্পাস একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও, মস্তিষ্কের আরও অনেক অঞ্চল সামগ্রিক প্রক্রিয়ায় অবদান রাখে। এটি মস্তিষ্কের একটি বিস্তৃত দুর্বলতাকে নির্দেশ করে, যেখানে বিচ্ছিন্ন ক্ষতি স্মৃতি হ্রাসের প্রাথমিক কারণ নয়। গবেষকরা মস্তিষ্কের স্ক্যান এবং জ্ঞানীয় পরীক্ষার ফলাফলের বিশাল ডেটা সেট বিশ্লেষণ করতে উন্নত এআই অ্যালগরিদম ব্যবহার করেছেন, যা স্মৃতির কার্যকারিতার সাথে সম্পর্কিত কাঠামোগত পরিবর্তনের ধরণ সনাক্ত করে। মস্তিষ্কের চিত্রের বিশাল ডেটা সেটের উপর প্রশিক্ষিত এই অ্যালগরিদমগুলি মস্তিষ্কের কাঠামোর সূক্ষ্ম পরিবর্তনগুলি সনাক্ত করতে সক্ষম ছিল যা মানুষের দৃষ্টি এড়িয়ে যেতে পারত।
গবেষণার প্রধান লেখক ড. [কাল্পনিক নাম] বলেছেন, "আমাদের ফলাফল প্রমাণ করে যে বয়সের সাথে স্মৃতিভ্রংশ একটি জটিল প্রক্রিয়া যা পুরো মস্তিষ্ককে জড়িত করে।" "এটি কেবল হিপ্পোক্যাম্পাস সঙ্কুচিত হওয়ার বিষয় নয়; এটি মস্তিষ্কের অঞ্চলগুলোর আন্তঃসংযুক্ততা এবং কীভাবে তাদের সম্মিলিত স্বাস্থ্য স্মৃতির কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করে তার বিষয়।" মস্তিষ্কের কাঠামোর উপর ভিত্তি করে কোনো ব্যক্তির স্মৃতিভ্রংশের ঝুঁকি কতটুকু, তা অনুমান করার জন্য এই গবেষণাটি মেশিন লার্নিং কৌশল ব্যবহার করেছে। এই ভবিষ্যদ্বাণী করার ক্ষমতা সম্ভবত উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের সনাক্ত করতে এবং আগে থেকে হস্তক্ষেপের সুযোগ তৈরি করতে ব্যবহার করা যেতে পারে।
এই গবেষণার তাৎপর্য ব্যক্তি স্বাস্থ্য ছাড়িয়ে সমাজের বয়স্ক জনসংখ্যার চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তোলে। যেহেতু বিশ্বব্যাপী জনসংখ্যা বাড়ছে, তাই স্মৃতিভ্রংশের প্রক্রিয়াগুলো বোঝা ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। গবেষণাটি মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের জন্য একটি সামগ্রিক পদ্ধতির প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেয়, যেখানে খাদ্য, ব্যায়াম এবং জ্ঞানীয় উদ্দীপনার মতো জীবনযাত্রার কারণগুলোর উপর মনোযোগ দেওয়া উচিত, যা মস্তিষ্কের গঠন এবং কার্যকারিতা বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে।
গবেষণায় জড়িত নন এমন বিশেষজ্ঞরা এর তাৎপর্যের উপর মন্তব্য করেছেন। [কাল্পনিক প্রতিষ্ঠান]-এর একজন নিউরোসায়েন্টিস্ট ড. [কাল্পনিক নাম] বলেছেন, "এই গবেষণাটি জোরালো প্রমাণ দেয় যে বয়স-জনিত স্মৃতিভ্রংশ একটি পদ্ধতিগত সমস্যা, কেবল স্থানীয় কোনো সমস্যা নয়। এটি এমন হস্তক্ষেপগুলো বিকাশের গুরুত্বের উপর জোর দেয় যা নির্দিষ্ট অঞ্চলের উপর মনোযোগ না দিয়ে পুরো মস্তিষ্ককে লক্ষ্য করে।"
গবেষকরা মস্তিষ্কের সঙ্কোচন এবং স্মৃতি হ্রাসে অবদান রাখে এমন নির্দিষ্ট আণবিক এবং সেলুলার প্রক্রিয়াগুলো নিয়ে তাদের কাজ চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। তাঁরা আরও অত্যাধুনিক এআই মডেল তৈরি করার লক্ষ্য রেখেছেন যা জ্ঞানীয় বার্ধক্যের পৃথক গতিপথের পূর্বাভাস দিতে পারে এবং चिकित্সা হস্তক্ষেপের জন্য সম্ভাব্য লক্ষ্য সনাক্ত করতে পারে। গবেষণার পরবর্তী পর্যায়ে বেশ কয়েক বছর ধরে অংশগ্রহণকারীদের মস্তিষ্কের গঠন এবং স্মৃতির কার্যকারিতার পরিবর্তনগুলি ট্র্যাক করার জন্য লঙ্গিটুডিনাল স্টাডিজ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এটি বয়স-জনিত স্মৃতিভ্রংশের অন্তর্নিহিত গতিশীল প্রক্রিয়াগুলোর আরও বিস্তারিত ধারণা দেবে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment