কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এই সপ্তাহে চীন সফর করেছেন, যার উদ্দেশ্য দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক পুনরুদ্ধার করা। ২০১৭ সালের পর এই প্রথম কোনো কানাডীয় নেতা চীন সফর করছেন। কার্নি এই সফরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে। কানাডা যখন তার বাণিজ্য সম্পর্কগুলোকে বহুমুখী করতে চাইছে, তখন এই সফরটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কার্নি জানিয়েছেন যে দেশটি আগামী দশকের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ব্যতীত অন্য দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য দ্বিগুণ করতে চায়; চীন সফর সেই প্রচেষ্টারই অংশ।
ভ্যাঙ্কুভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে কানাডার কর্তৃপক্ষের হাতে হুয়াওয়ের এক শীর্ষ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তারের পর কানাডা ও চীনের মধ্যে সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে খারাপ হয়ে যায়। চীন এর প্রতিশোধ নেয়। এই গ্রেপ্তার এবং পরবর্তী ঘটনাগুলো কূটনৈতিক ও বাণিজ্য বিরোধের জন্ম দেয়, যা সম্পর্ককে আরও কঠিন করে তোলে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে যে আলোচনায় বাণিজ্য, জলবায়ু পরিবর্তন এবং মানবাধিকারসহ বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে। আলোচনার নির্দিষ্ট নীতিগত বিষয়গুলো এখনও প্রকাশ্যে আনা হয়নি, তবে ধারণা করা হচ্ছে কার্নি চীনের মানবাধিকার পরিস্থিতি, বিশেষ করে জিনজিয়াংয়ের উইঘুরদের প্রতি আচরণ এবং হংকংয়ের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করবেন।
কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন যে এই সফর যোগাযোগ চ্যানেলগুলো পুনরায় স্থাপন এবং জলবায়ু পরিবর্তন ও বিশ্ব স্বাস্থ্যের মতো পারস্পরিক স্বার্থের ক্ষেত্রগুলো অন্বেষণ করার একটি সুযোগ। আবার কেউ কেউ বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা এবং ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার সাথে সম্পর্কিত চলমান উত্তেজনার দিকে ইঙ্গিত করে সন্দিহান রয়েছেন।
কার্নির সফরের ফলাফল এখনও দেখার বিষয়, তবে এটিকে কানাডা-চীন সম্পর্কের ভবিষ্যতের গতিপথ নির্ধারণের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বৈঠকের সমাপ্তির পর উভয় দেশের সরকারের পক্ষ থেকে আরও বিবৃতি আশা করা হচ্ছে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment