মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর বুধবার ঘোষণা করেছে যে তারা আফগানিস্তান, ইরান, রাশিয়া এবং সোমালিয়া সহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসার প্রক্রিয়াকরণ স্থগিত করবে। এই সিদ্ধান্তটি সেইসব দেশের নাগরিকদের প্রভাবিত করবে যাদের ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকালে সরকারি সহায়তার প্রয়োজন হতে পারে বলে মনে করে।
পররাষ্ট্র দফতর, যার নেতৃত্বে আছেন সেক্রেটারি অফ স্টেট মার্কো রুবিও, অনুসারে, কনস্যুলার কর্মকর্তাদের ওই নির্দিষ্ট দেশগুলো থেকে আসা অভিবাসী ভিসার আবেদন প্রক্রিয়াকরণ বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই নির্দেশিকাটি নভেম্বরে জারি করা একটি বৃহত্তর আদেশের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ, যেখানে সম্ভাব্য অভিবাসীদের "পাবলিক চার্জ" হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে তাদের বিষয়ে বিধি-নিষেধ আরও কঠোর করা হয়েছে।
এই পদক্ষেপটি প্রায় ৪০টি দেশের উপর প্রশাসনের আরোপিত পূর্ববর্তী অভিবাসন এবং ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার পরিধি বাড়ালো। এটিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিদেশি নাগরিকদের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের মান জোরদার করার চলমান উদ্যোগের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
"পাবলিক চার্জ" বিধি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইনের একটি দীর্ঘস্থায়ী বিধান, যা অভিবাসন কর্মকর্তাদের সেইসব ব্যক্তিদের স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি প্রত্যাখ্যান করার ক্ষমতা দেয় যাদের ভরণপোষণের জন্য সরকারের উপর নির্ভরশীল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন এই বিধির ব্যাখ্যা প্রসারিত করেছে, এবং একজন আবেদনকারী পাবলিক চার্জ হওয়ার সম্ভাবনা আছে কিনা তা নির্ধারণ করার সময় নগদবিহীন সহায়তা সহ বিস্তৃত সরকারি সুবিধাদি বিবেচনা করছে।
সমালোচকরা বলছেন যে এই প্রসারিত বিধিটি স্বল্প আয়ের অভিবাসীদের উপর disproportionately প্রভাব ফেলবে এবং বিদ্যমান বৈষম্যকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। তারা আরও বলছেন যে এটি অভিবাসীদের স্বাগত জানানো এবং উন্নতির সুযোগ দেওয়ার আমেরিকান মূল্যবোধের সাথে সাংঘর্ষিক। তবে সমর্থকরা বলছেন যে অভিবাসীরা যেন স্বাবলম্বী হন এবং মার্কিন করদাতাদের উপর বোঝা না হন, তা নিশ্চিত করার জন্য এটি প্রয়োজনীয়।
এই ৭৫টি দেশের জন্য অভিবাসী ভিসা স্থগিত করার ফলে পরিবারগুলোর পুনর্মিলন এবং অর্থনৈতিক অবদানের উপর এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। অনেক অভিবাসী তাদের নিজ দেশে রেমিটেন্স পাঠান, যা তাদের পরিবারকে সহায়তা করে এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখে। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে এই প্রবাহ ব্যাহত হতে পারে এবং ক্ষতিগ্রস্থ দেশগুলোর জন্য নেতিবাচক পরিণতি হতে পারে।
পররাষ্ট্র দফতর এখনও পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞার দ্বারা প্রভাবিত ৭৫টি দেশের একটি বিস্তৃত তালিকা প্রকাশ করেনি। নীতিটির বাস্তবায়ন এবং এর সম্ভাব্য সময়কাল সম্পর্কিত আরও বিস্তারিত তথ্য আগামী কয়েক দিনের মধ্যে প্রকাশ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জ আসার সম্ভাবনা রয়েছে, কারণ advocacy group-গুলো যুক্তি দেখাচ্ছে যে এটি বিদ্যমান অভিবাসন আইন এবং আন্তর্জাতিক চুক্তি লঙ্ঘন করে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment