২০২৫ সালে চীনের ব্যাংকগুলো গত সাত বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পরিমাণে নতুন ঋণ বিতরণ করেছে, যা ঋণগ্রহীতাদের কাছ থেকে দুর্বল চাহিদার ইঙ্গিত দেয় এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায়।
ব্লুমবার্গ কর্তৃক গণনাকৃত এবং বৃহস্পতিবার চীনের পিপলস ব্যাংক কর্তৃক প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বরে নতুন ইউয়ান ঋণের পরিমাণ ছিল ৯০৮ বিলিয়ন ইউয়ান (১৩০ বিলিয়ন ডলার)। এই সংখ্যা প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি এবং নভেম্বরের মোট ঋণের দ্বিগুণেরও বেশি, তবে পুরো বছরের সামগ্রিক ঋণ পরিস্থিতি একটি উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরে। ঋণের এই ধীরগতি চীনের অর্থনীতির সামগ্রিক দুর্বলতার একটি বৃহত্তর প্রবণতাকে প্রতিফলিত করে, যা রিয়েল এস্টেট থেকে শুরু করে উৎপাদন খাত পর্যন্ত বিভিন্ন সেক্টরকে প্রভাবিত করছে।
ঋণ নেওয়ার আগ্রহ হ্রাসের কারণে বাজারের স্থিতিশীলতা এবং ভবিষ্যতের বিনিয়োগের উপর প্রভাব পড়তে পারে। ঋণের পরিমাণ কম হলে ব্যবসার মূলধন ব্যয় হ্রাস হতে পারে, যা উদ্ভাবন এবং সম্প্রসারণকে ধীর করে দিতে পারে। এই প্রবণতা ব্যাংকগুলোর আর্থিক স্বাস্থ্যের উপরও প্রভাব ফেলে, কারণ ঋণ কার্যক্রম কমে গেলে লাভের মার্জিন কমে যেতে পারে এবং অকার্যকর ঋণ ব্যবস্থাপনার চাপ বাড়তে পারে। বিদ্যমান ঋণের মাত্রা আরও না বাড়িয়ে আর্থিক ও মুদ্রানীতির মাধ্যমে চাহিদা বাড়ানোর চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে চীনা সরকার।
চীনের ব্যাংকিং খাত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির মধ্যে মূলধন প্রবাহ পরিচালনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই প্রতিষ্ঠানগুলো অবকাঠামো প্রকল্পগুলোতে অর্থায়ন, ছোট-বড় সব ধরনের ব্যবসাকে সহায়তা এবং ভোক্তাদের ব্যয় সহজতর করতে সহায়ক। নতুন ঋণের সাম্প্রতিক হ্রাস চীনের অর্থনীতির জন্য একটি জটিল দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যে দিয়ে যাওয়ার চ্যালেঞ্জগুলোকে তুলে ধরে।
ভবিষ্যতে নতুন ঋণের গতিপথ চীনের অর্থনৈতিক স্বাস্থ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হবে। চাহিদা বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকারের নীতিগুলোর পাশাপাশি চীনা ব্যবসার উপর বিশ্ব অর্থনীতির অবস্থার প্রভাব বিশ্লেষকরা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন। পরিবর্তিত বাজারের গতিশীলতার সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার এবং কার্যকরভাবে মূলধন বরাদ্দ করার জন্য চীনা ব্যাংকগুলোর সক্ষমতা আগামী বছরগুলোতে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সমর্থন করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment