ট্রাম্প প্রশাসন আদালতে স্বীকার করেছে যে ম্যাসাচুসেটস কলেজের ছাত্রী এনি লুসিয়া লোপেজ বেলোজাকে ফেরত পাঠানো একটি ভুল ছিল। বাবসন কলেজের ১৯ বছর বয়সী প্রথম বর্ষের ছাত্রী লোপেজ বেলোজা ২০শে নভেম্বর বোস্টনের বিমানবন্দরে আটক হন এবং দু'দিন পর হন্ডুরাসে ফেরত পাঠানো হয়। অথচ একটি জরুরি আদালতের নির্দেশ ছিল যে সরকার তাকে কমপক্ষে ৭২ ঘণ্টার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে রাখবে। এই ঘটনার পরেই ক্ষমা চাওয়া হয়।
লোপেজ বেলোজা যখন থ্যাঙ্কসগিভিং-এর জন্য তার পরিবারকে টেক্সাসে গিয়ে চমকে দিতে যাচ্ছিলেন, তখনই সরকারের এই ভুলটি ঘটে। ২০১৪ সালে যখন তার বয়স সাত বছর ছিল, তখন তার পরিবার হন্ডুরাস থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসিত হয়েছিল। ট্রাম্প প্রশাসন ভুল স্বীকার করলেও যুক্তি দিয়েছিল যে এই ভুলের কারণে তার অভিবাসন মামলা প্রভাবিত হওয়া উচিত নয়।
লোপেজ বেলোজার ফেরত পাঠানোর ঘটনা অভিবাসন প্রয়োগে ব্যবহৃত স্বয়ংক্রিয় সিস্টেমগুলোর জটিলতা এবং সম্ভাব্য ত্রুটিগুলো তুলে ধরে। এই সিস্টেমগুলো প্রায়শই ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং ফেরত পাঠানোর অগ্রাধিকার নির্ধারণের জন্য অ্যালগরিদম ব্যবহার করে। পক্ষপাতদুষ্ট ডেটা বা ত্রুটিপূর্ণ প্রোগ্রামিংয়ের কারণে এই সিস্টেমে ভুল হতে পারে। এই ঘটনাটি সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে এআই-চালিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার ন্যায্যতা এবং স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
অভিবাসন প্রয়োগে এআই-এর ব্যবহার একটি ক্রমবর্ধমান প্রবণতা। সংস্থাগুলো ক্রমবর্ধমানভাবে অ্যালগরিদমের উপর নির্ভর করছে। এই অ্যালগরিদমগুলো অভিবাসন আইন লঙ্ঘনকারী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা, আশ্রয় প্রার্থনার মূল্যায়ন করা এবং এমনকি কোনো ব্যক্তি আদালতের শুনানির আগে পালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা কতটুকু, তা অনুমান করার মতো কাজ করে। এই অ্যালগরিদমগুলো বিশাল ডেটাসেটের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়, যা বিদ্যমান সামাজিক পক্ষপাতিত্বকে প্রতিফলিত করতে পারে এবং এর ফলে বৈষম্যমূলক ফলাফল হতে পারে।
অ্যালগরিদমিক ন্যায্যতার বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ-ঝুঁকির সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে এআই-এর সমালোচনাহীন ব্যবহারের বিরুদ্ধে সতর্ক করেছেন। তারা যুক্তি দেখিয়েছেন যে অ্যালগরিদমগুলোকে অবশ্যই পক্ষপাতিত্বের জন্য কঠোরভাবে পরীক্ষা করা উচিত এবং অ্যালগরিদমিক সিদ্ধান্তের দ্বারা প্রভাবিত ব্যক্তিদের সেই সিদ্ধান্তগুলো কীভাবে নেওয়া হয়েছে তা বোঝার এবং প্রয়োজনে সেগুলোকে চ্যালেঞ্জ করার অধিকার থাকা উচিত।
লোপেজ বেলোজা বর্তমানে হন্ডুরাসে তার দাদা-দাদির সাথে রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রে তার অভিবাসন মর্যাদা পুনরুদ্ধারের জন্য আইনি লড়াই চলছে। তার আইনি দল যুক্তি দিচ্ছে যে সরকারের স্বীকার করা ভুলটি বিবেচনায় নেওয়া উচিত। এই ঘটনাটি অভিবাসন প্রয়োগে এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে বৃহত্তর তদারকি এবং জবাবদিহিতার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেয়, যাতে এই ধরনের ভুলগুলো পুনরাবৃত্তি না হয় এবং ব্যক্তিরা যেন ন্যায্য আচরণ পায়।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment