সম্প্রতি প্রত্নতত্ত্ববিদরা ডেনমার্কের উপকূলের অদূরে সমুদ্রের তলদেশে একটি বিশাল মধ্যযুগীয় পণ্যবাহী জাহাজের ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কার করেছেন, যা মধ্যযুগীয় বাণিজ্য এবং সামুদ্রিক জীবন সম্পর্কে নতুন ধারণা দিচ্ছে। গবেষকদের দ্বারা Svaelget 2 নামে অভিহিত জাহাজডুবির ধ্বংসাবশেষটি ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে একটি নির্মাণ প্রকল্পের প্রস্তুতির জন্য সমুদ্রতলদেশে জরিপ করার সময় পাওয়া যায়।
জাহাজটি, কগ-টাইপের বণিক জাহাজ, ডেনমার্ক এবং সুইডেনকে পৃথককারী প্রণালী Øresund-এর পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১২ মিটার নীচে, আংশিকভাবে বালিতে নিমজ্জিত অবস্থায় কাত হয়ে ছিল। ডেনড্রোক্রোনোলজিক্যাল বিশ্লেষণে, জাহাজের কাঠের তক্তা থেকে প্রাপ্ত গাছের বলয়ের সাথে সুনির্দিষ্টভাবে তারিখকৃত গাছের নমুনার তুলনা করে দেখা যায় যে জাহাজটি ১৪১০ খ্রিস্টাব্দের কাছাকাছি নির্মিত হয়েছিল। জাহাজটির আসল নাম জানা যায়নি।
কগ ছিল চওড়া, সমতল-তলদেশযুক্ত জাহাজ, যেগুলোর উঁচু দিক, খোলা পণ্য বোঝাই করার স্থান এবং একটি বর্গাকার পাল থাকত, যা সাধারণত মধ্যযুগে বাণিজ্যের জন্য ব্যবহৃত হত। Svaelget 2-এর আকার থেকে বোঝা যায় যে এটির বাল্টিক সাগর জুড়ে পণ্য পরিবহনের জন্য যথেষ্ট ক্ষমতা ছিল। এই আবিষ্কারটি সেই যুগের নির্মাণ কৌশল এবং বাণিজ্য পথ অধ্যয়নের একটি বিরল সুযোগ দেয়। ভাইকিং শিপ মিউজিয়ামকে ধ্বংসাবশেষের ছবিটির কৃতিত্ব দেওয়া হয়।
এই আবিষ্কার মধ্যযুগীয় সামুদ্রিক প্রযুক্তি এবং অর্থনৈতিক কার্যকলাপের একটি বৃহত্তর ধারণা দেয়। জাহাজডুবির ধ্বংসাবশেষ এবং এর ভেতরের জিনিসপত্রের আরও তদন্ত থেকে কী ধরনের পণ্য পরিবহন করা হত, জাহাজের নাবিকদল এবং পঞ্চদশ শতাব্দীর নাবিকদের দৈনন্দিন জীবন সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রত্নতত্ত্ববিদরা সাইটটির আরও পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, যাতে নিদর্শন উদ্ধার এবং জাহাজের কাঠামো আরও বিশ্লেষণ করা যায়।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment