উগান্ডায় গবেষকরা আবিষ্কার করেছেন যে কাপড়ের তৈরি আচ্ছাদনকে কীটনাশক পারমেথ্রিন দিয়ে শোধন করলে ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার হার দুই-তৃতীয়াংশ কমে যায়। এই আচ্ছাদনে করেই শিশুরা সাধারণত থাকে। কাসেস-এ এই গবেষণাটি চালানো হয়েছিল। কাসেস হল পশ্চিম উগান্ডার একটি গ্রামীণ, পার্বত্য অঞ্চল। এই গবেষণায় প্রায় ছয় মাস বয়সী ৪০০ জন মা ও তাঁদের বাচ্চারা অংশ নিয়েছিলেন। দিনের বেলায় মশার কামড় থেকে বাঁচানোর জন্য এই উদ্ভাবনী পদ্ধতিটি একটি সহজ ও কার্যকরী উপায়।
ম্যালেরিয়া মশার মাধ্যমে ছড়ায় এবং প্রতি বছর ৬০০,০০০-এর বেশি মানুষের প্রাণ কেড়ে নেয়, যাদের মধ্যে বেশিরভাগই আফ্রিকার পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু। আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা ও এশিয়া জুড়ে শিশুদের কাপড়ের আচ্ছাদনে রাখার ঐতিহ্য রয়েছে। এই ঐতিহ্যকে কাজে লাগিয়ে ম্যালেরিয়া প্রতিরোধের একটি সম্ভাব্য জীবন রক্ষাকারী উপায় তৈরি করা হয়েছে। গবেষকরা কাপড়ের আচ্ছাদনগুলোকে বহুল ব্যবহৃত ও সস্তা কীটনাশক পারমেথ্রিনে ভিজিয়ে মশার কামড় থেকে একটি সুরক্ষামূলক বেষ্টনী তৈরি করার চেষ্টা করেছেন।
এই পরীক্ষার সাফল্য জনস্বাস্থ্য বিষয়ক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আধুনিক সমাধানের সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী রীতিনীতিকে একীভূত করার সম্ভাবনাকে তুলে ধরে। পারমেথ্রিন-চিকিৎসা করা আচ্ছাদন ব্যবহার করা ম্যালেরিয়া প্রতিরোধের জন্য একটি সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য পদ্ধতি, বিশেষ করে সীমিত সম্পদের প্রেক্ষাপটে এটি খুবই উপযোগী। যেসব অঞ্চলে প্রচলিত মশারি ও অন্যান্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার সুযোগ কম, সেসব সম্প্রদায়ের জন্য এই পদ্ধতি উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।
শিল্প সংশ্লিষ্টদের মতে, এই পদ্ধতির সরলতা ও সাশ্রয়ী হওয়ার কারণে ম্যালেরিয়া প্রবণ অঞ্চলে এটি ব্যাপকভাবে গৃহীত হতে পারে। শিশুদের কাপড়ের আচ্ছাদনে রাখার মতো দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যকে কাজে লাগানোর সাংস্কৃতিক প্রভাব কমিউনিটিতে এর গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে পারে। এই পদক্ষেপের দীর্ঘমেয়াদী কার্যকারিতা ও পরিধি মূল্যায়ন করার জন্য আরও গবেষণা প্রয়োজন। তবে, প্রাথমিক ফলাফল ম্যালেরিয়ার বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে একটি নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে। এটি প্রমাণ করে যে উদ্ভাবনী ক্ষমতা ও সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতা কীভাবে জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে কার্যকরী সমাধান আনতে পারে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment