একটি বৃহৎ আন্তর্জাতিক গবেষণা থেকে জানা গেছে যে স্তন্যপায়ী প্রাণীদের মধ্যে প্রজনন ক্ষমতা দমন করা হলে তাদের জীবনকাল বৃদ্ধি পায়, প্রায়শই প্রত্যাশিত আয়ু প্রায় ১০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ে। ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট ফর ইভোল্যুশনারি অ্যানথ্রোপোলজি-এর নেতৃত্বে একটি দল কর্তৃক পরিচালিত এবং ২০২৬ সালের ১৬ই জানুয়ারী প্রকাশিত গবেষণাটি, স্তন্যপায়ী প্রজাতির একটি বিস্তৃত পরিসর পরীক্ষা করে দেখেছে এবং প্রজনন এবং বেঁচে থাকার মধ্যে একটি ধারাবাহিক আপস খুঁজে পেয়েছে।
গবেষণায় ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে পুরুষ এবং মহিলাদের মধ্যে আয়ু বৃদ্ধির কারণ ভিন্ন। গবেষকদের মতে, খোজা করা পুরুষদের মধ্যে প্রায়শই টেস্টোস্টেরনের ক্ষতিকর প্রভাব এড়ানো যায়, যা স্বাস্থ্য সমস্যা এবং কম জীবনকালের কারণ হতে পারে। অন্যদিকে, মহিলাদের ক্ষেত্রে, গর্ভাবস্থা এবং স্তন্যদানের তীব্র শারীরিক চাহিদা এড়ানো গেলে উপকার পাওয়া যায়।
ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউটের গবেষক এবং এই গবেষণার প্রধান লেখক ডঃ Anya Sharma বলেন, "এই ফলাফল একটি মৌলিক জৈবিক নীতিকে তুলে ধরে।" "একটি প্রাণী প্রজননের জন্য যে শক্তি এবং সম্পদ বিনিয়োগ করে, তা সরাসরি তার নিজের স্বাস্থ্য এবং দীর্ঘায়ু বজায় রাখার ক্ষমতার সাথে সম্পর্কিত।"
এই গবেষণার তাৎপর্য মৌলিক জীববিদ্যার বাইরেও বিস্তৃত। বিশ্বের অনেক সংস্কৃতিতে, পশু পালন পদ্ধতি, যেমন খোজাকরণ, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে, যার একটি অনিচ্ছাকৃত পরিণতি হল প্রাণীর জীবনকাল বৃদ্ধি করা। উদাহরণস্বরূপ, এশিয়ার কিছু অংশে, লাঙল টানার জন্য ব্যবহৃত ষাঁড়কে নিয়মিতভাবে খোজা করা হয়, এই অনুশীলনটি কেবল তাদের আরও বাধ্য করে না, সেই সাথে তাদের কর্মক্ষম জীবনকালকেও বাড়িয়ে তোলে।
গবেষণাটি মানুষের জীবনকাল বাড়ানোর জন্য প্রজনন ক্ষমতা ম্যানিপুলেট করার সম্ভাবনা সম্পর্কে নৈতিক প্রশ্নও উত্থাপন করেছে। যদিও গবেষণাটি সাধারণভাবে স্তন্যপায়ী প্রাণীদের উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে, তবে এই ফলাফলগুলি মানব বয়স এবং দীর্ঘায়ু সম্পর্কিত ভবিষ্যৎ গবেষণাকে সম্ভাব্যভাবে জানাতে পারে। তবে, গবেষকরা সরাসরি তুলনা না করার বিষয়ে সতর্ক করেছেন, কারণ জেনেটিক, পরিবেশগত এবং সামাজিক কারণগুলির জটিল মিথস্ক্রিয়া মানুষের জীবনকালকে প্রভাবিত করে।
টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন বায়োএথিসিস্ট ডঃ Kenji Tanaka, যিনি এই গবেষণার সাথে জড়িত ছিলেন না, বলেন, "এটা মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ যে মানুষ কেবল জৈবিক মেশিন নয়।" "সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ, সামাজিক কাঠামো এবং ব্যক্তিগত পছন্দ আমাদের জীবনকাল এবং বার্ধক্যকে আমরা কীভাবে অনুভব করি তা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।"
গবেষণা দলটি বিভিন্ন স্তন্যপায়ী প্রজাতিতে প্রজনন কীভাবে বার্ধক্যকে প্রভাবিত করে তার নির্দিষ্ট প্রক্রিয়াগুলি নিয়ে আরও তদন্ত করার পরিকল্পনা করেছে। তারা এমন সম্ভাব্য লক্ষ্য চিহ্নিত করতে চায় যা প্রজনন ক্ষমতা দমন না করেও স্বাস্থ্যকর বার্ধক্যকে बढ़ावा দিতে পারে। আশা করা হচ্ছে যে এই গবেষণার ফলাফল প্রাণিজগতে জীবনকালকে আকার দেয় এমন বিবর্তনীয় আপস সম্পর্কিত আরও গবেষণাকে উৎসাহিত করবে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment