সাব-সাহারান আফ্রিকাতে একটি নতুন এইচআইভি ভ্যাকসিনের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল, যা শুরু হওয়ার কথা, তহবিল সংকটের কারণে এই বছরের শুরুতে বাতিল হওয়া থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে। গবেষক, চিকিৎসক এবং এইচআইভি বিশেষজ্ঞদের একটি দল, ব্রিলিয়ান্ট কনসোর্টিয়াম, ২০২৩ সালে ভ্যাকসিনটি তৈরি এবং পরীক্ষা করার জন্য ইউ.এস. এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট (USAID) থেকে ৪৫ মিলিয়ন ডলার অনুদান পেয়েছিল।
কনসোর্টিয়ামটি গত বছরের শুরুতে জাঞ্জিবারে মিলিত হয়ে ট্রায়ালের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে, যার লক্ষ্য সাব-সাহারান আফ্রিকাতে এইচআইভি-এর অসামঞ্জস্যপূর্ণ প্রভাব মোকাবিলা করা। এই অঞ্চলটি নতুন সংক্রমণ এবং এইডস-সম্পর্কিত মৃত্যুর একটি উল্লেখযোগ্য বোঝা বহন করে চলেছে।
জোহানেসবার্গের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর কমিউনিকেবল ডিজিজেস (NICD)-এর একজন সিনিয়র মেডিকেল সায়েন্টিস্ট নোনো মখিজের মতে, USAID-এর অনুদান একটি "নজিরবিহীন" ঘটনা ছিল আফ্রিকান-নেতৃত্বাধীন কনসোর্টিয়ামের জন্য। এই তহবিলটি ট্রায়ালের সমস্ত পর্যায়ে সহায়তা করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল, অংশগ্রহণকারী নিয়োগ থেকে শুরু করে ডেটা বিশ্লেষণ পর্যন্ত।
পরীক্ষিত উদ্ভাবনী ভ্যাকসিনটি এইচআইভি স্ট্রেইনের বিস্তৃত পরিসরকে নিরপেক্ষ করতে পারে এমন অ্যান্টিবডি তৈরি করতে ইমিউন সিস্টেমকে উদ্দীপিত করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। এটি সফল হলে, এইচআইভি প্রতিরোধ প্রচেষ্টায় একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হতে পারে।
তবে, অপ্রত্যাশিত আমলাতান্ত্রিক বিলম্ব এবং USAID-এর মধ্যে অগ্রাধিকার পরিবর্তনের কারণে প্রকল্পটি ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। কনসোর্টিয়াম তহবিলের একটি অংশ হারানোর ঝুঁকিতে ছিল, যা তাদের ট্রায়ালটি কমাতে বা সম্পূর্ণরূপে পরিত্যাগ করতে বাধ্য করত।
তীব্র আলোচনা ও সমর্থন প্রচেষ্টার পর, ব্রিলিয়ান্ট কনসোর্টিয়াম USAID থেকে এই আশ্বাস পেতে সক্ষম হয়েছে যে তহবিল বহাল থাকবে। ট্রায়ালটি এখন পরিকল্পনা অনুযায়ী শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে, আগামী মাসগুলোতে অংশগ্রহণকারীদের নিয়োগ শুরু হবে।
এই ট্রায়ালে সাব-সাহারান আফ্রিকা জুড়ে একাধিক সাইট অন্তর্ভুক্ত থাকবে, যেখানে এইচআইভি দ্বারা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ সম্প্রদায়ের উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করা হবে। গবেষকরা ভ্যাকসিনের কোনও বিরূপ প্রতিক্রিয়ার জন্য অংশগ্রহণকারীদের নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন এবং এইচআইভি সংক্রমণ প্রতিরোধে এর কার্যকারিতা মূল্যায়ন করবেন।
ট্রায়ালের ফলাফল কয়েক বছরের মধ্যে পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। ভ্যাকসিনটি নিরাপদ এবং কার্যকর প্রমাণিত হলে, এটি সাব-সাহারান আফ্রিকা এবং বিশ্বব্যাপী এইচআইভি মহামারী কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment