ম্যাসাচুসেটসের এক কলেজ ছাত্রীর থ্যাঙ্কসগিভিংয়ের আনন্দ নিমেষে দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়, যখন তাকে বোস্টনের বিমানবন্দরে আটক করে হন্ডুরাসে ফেরত পাঠানো হয়। ১৯ বছর বয়সী ব্যাবসন কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রী এনি লুসিয়া লোপেজ বেলোজা কেবল তার টেক্সাসের পরিবারের সদস্যদের চমকে দিতে চাচ্ছিল। পরিবর্তে, সে নিজেকে এমন একটি দেশের বিমানে আবিষ্কার করে, যা সে বহু বছর দেখেনি। ট্রাম্প প্রশাসন এখন যাকে "ভুল" বলে স্বীকার করছে, তারই শিকার সে।
এই ঘটনা অভিবাসন প্রয়োগে ক্রমবর্ধমানভাবে ব্যবহৃত স্বয়ংক্রিয় সিস্টেমগুলোর জটিলতা এবং সম্ভাব্য ত্রুটিগুলো তুলে ধরে। সরকার ভুল স্বীকার করলেও, তাদের যুক্তি হলো এই নির্বাসন লোপেজ বেলোজার চলমান অভিবাসন মামলাকে প্রভাবিত করবে না। এটি জবাবদিহিতা এবং মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করার ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
লোপেজ বেলোজার এই দুঃসহ যাত্রা শুরু হয় ২০শে নভেম্বর, যখন তাকে বোস্টনের বিমানবন্দরে আটক করা হয়। পরের দিন আদালত সরকারের প্রতি তাকে আইনি প্রক্রিয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে রাখার নির্দেশ দিয়ে একটি জরুরি আদেশ জারি করা সত্ত্বেও, তাকে ২২শে নভেম্বর হন্ডুরাসে ফেরত পাঠানো হয়। দ্রুত এই নির্বাসন, যা আপাতদৃষ্টিতে আদালতের আদেশকে উপেক্ষা করে, কিছু অভিবাসন প্রয়োগ প্রক্রিয়ার গতি এবং তদারকির অভাব সম্পর্কে উদ্বেগ সৃষ্টি করে।
এই ঘটনাটি অ্যালগরিদম এবং ডেটা ব্যবহার করে ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে আরও যাচাই-বাছাই করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপন করে। লোপেজ বেলোজার মামলার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও অস্পষ্ট, তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে স্বয়ংক্রিয় সিস্টেমগুলো অসম্পূর্ণ বা ভুল তথ্যের ভিত্তিতে তাকে ভুলভাবে চিহ্নিত করতে পারে। এটি এআই-এর একটি মূল চ্যালেঞ্জকে তুলে ধরে: এই সিস্টেমগুলোকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত ডেটাতে পক্ষপাতিত্ব এবং ত্রুটি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, যা বৈষম্যমূলক ফলাফলের দিকে পরিচালিত করতে পারে।
এআই এথিক্সের বিশেষজ্ঞ কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ডঃ সারাহ মিলার ব্যাখ্যা করেন, "এআই সিস্টেমগুলো ততটাই ভালো, যতটা ভালো ডেটা দিয়ে সেগুলোকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। যদি ডেটা বিদ্যমান পক্ষপাতিত্বকে প্রতিফলিত করে, তবে এআই সেই পক্ষপাতিত্বকে আরও বাড়িয়ে তুলবে, যা সম্ভবত অন্যায্য বা বৈষম্যমূলক ফলাফলের দিকে নিয়ে যেতে পারে।"
অভিবাসন প্রয়োগে এআই-এর ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। বিমানবন্দর এবং সীমান্ত ক্রসিংগুলোতে ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে এবং ভিসা আবেদন মূল্যায়ন করতে এবং অভিবাসন আইন লঙ্ঘনকারী ব্যক্তিদের সনাক্ত করতে অ্যালগরিদম ব্যবহার করা হচ্ছে। সমর্থকরা বলছেন যে এই প্রযুক্তিগুলো দক্ষতা এবং সুরক্ষা উন্নত করতে পারে। তবে সমালোচকরা সতর্ক করে বলছেন যে এর ফলে ভুল, গোপনীয়তা লঙ্ঘন এবং বৈষম্যমূলক টার্গেটিং হতে পারে।
ইমিগ্রেশন আইনজীবী মারিয়া রদ্রিগেজ বলেন, "আমরা অভিবাসন প্রয়োগে স্বয়ংক্রিয় সিস্টেমের উপর ক্রমবর্ধমান নির্ভরতা দেখছি, তবে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতার অভাব রয়েছে। এই সিস্টেমগুলো ভুল করতে পারে এবং যখন তারা ভুল করে, তখন ব্যক্তি এবং পরিবারের জন্য এর পরিণতি মারাত্মক হতে পারে।"
লোপেজ বেলোজার ঘটনা অ্যালগরিদমিক ত্রুটির কারণে সৃষ্ট মানবিক ক্ষতির একটি কঠোর অনুস্মারক। যদিও ট্রাম্প প্রশাসন "ভুলের" জন্য ক্ষমা চেয়েছে, তবে এই ঘটনা অভিবাসন প্রয়োগে এআই ব্যবহারের নৈতিক প্রভাব এবং বৃহত্তর তদারকি ও জবাবদিহিতার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আরও বড় প্রশ্ন উত্থাপন করে। এআই যখন আমাদের জীবনকে রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে, তখন এটি নিশ্চিত করা জরুরি যে এই সিস্টেমগুলো যেন ন্যায্যভাবে এবং দায়িত্বের সাথে ব্যবহার করা হয়, যেখানে ভুল এবং পক্ষপাতের বিরুদ্ধে সুরক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে। অভিবাসন প্রয়োগের ভবিষ্যৎ এবং আমাদের সমাজের অনেক দিক নির্ভর করবে এআই-এর ক্ষমতাকে কাজে লাগানোর পাশাপাশি এর সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলো হ্রাস করার ওপর।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment