গাজার জন্য ট্রাম্পের ‘শান্তি বোর্ড’: ইসরায়েল কেন আপত্তি করছে?
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজার যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য একটি "বোর্ড অফ পিস" (শান্তি বোর্ড) এর সদস্য নিয়োগ করেছেন, যা ইতিমধ্যেই ইসরায়েলের কাছ থেকে আপত্তি টেনেছে এবং ফিলিস্তিনিদের কণ্ঠস্বর বাদ দেওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ২০২৬ সালের ১৮ জানুয়ারির প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বোর্ডে টনি ব্লেয়ার এবং জারেড কুশনারের মতো ব্যক্তিত্বরা রয়েছেন।
বোর্ডের গঠন নিয়ে ইসরায়েলের আপত্তি তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট নয়, তবে সমালোচকরা সতর্ক করেছেন যে মার্কিন-নেতৃত্বাধীন এই উদ্যোগ গাজার ভবিষ্যৎ নির্ধারণে ফিলিস্তিনিদের দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রান্তিক করে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে ব্লেয়ার এবং কুশনারের নির্বাচন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে, মধ্যপ্রাচ্য কূটনীতিতে তাদের অতীত ভূমিকা এবং পক্ষপাতিত্বের কারণে।
বোর্ড অফ পিস-এর প্রতিষ্ঠা এমন এক সময়ে হয়েছে যখন গাজা বছরের পর বছর ধরে সংঘাত ও অস্থিরতার পরে পুনর্গঠনের কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। বোর্ডের ম্যান্ডেটের মধ্যে রয়েছে পুনর্গঠন প্রচেষ্টা তদারকি করা, অর্থনৈতিক উন্নয়নকে উৎসাহিত করা এবং এই অঞ্চলে শাসন কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা। তবে, বোর্ডে ফিলিস্তিনিদের প্রতিনিধিত্বের অভাব এর বৈধতা এবং কার্যকারিতা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
এই পরিস্থিতি সংঘাত-পরবর্তী অঞ্চলে আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণের জটিলতা তুলে ধরে। পরিস্থিতির এআই-চালিত বিশ্লেষণে দেখা যায় যে সফল শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য প্রাসঙ্গিক সকল পক্ষকে অন্তর্ভুক্ত করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া প্রয়োজন। ফিলিস্তিনিদের কণ্ঠস্বর বাদ দেওয়া বোর্ডের প্রচেষ্টাকে দুর্বল করতে পারে এবং বিদ্যমান উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে।
বোর্ড অফ পিস-এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব এখনও অনিশ্চিত। এর সাফল্য নির্ভর করবে সংঘাতের মূল কারণগুলো মোকাবেলা করা, পুনর্মিলনকে উৎসাহিত করা এবং ফিলিস্তিনি জনগণকে তাদের ভবিষ্যৎ গঠনে ক্ষমতায়ন করার ওপর। বোর্ডটি প্রাথমিক বাধাগুলো কাটিয়ে উঠতে এবং তার ঘোষিত লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে কিনা, তা নির্ধারণে আগামী সপ্তাহগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment