অর্থনীতি বিষয়ক সম্পাদক ফয়সাল ইসলামের মতে, গ্রিনল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাবের বিরোধিতা করলে পশ্চিমা মিত্রদের অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কথিত হুমকি নজিরবিহীন। সম্প্রতি এই হুমকির কথা জানা যায়, যা হোয়াইট হাউস কর্তৃক তার ঘনিষ্ঠ মিত্রদের উপর চাপানো এক প্রকার অর্থনৈতিক যুদ্ধ হিসাবে বর্ণিত হয়েছে।
ইসলাম বলেন, এই পদক্ষেপ সামান্য সতর্কতা সংকেত দিয়ে মিত্রদের লক্ষ্য করে নেওয়া হয়েছে এবং এর ফলে ন্যাটো এবং পশ্চিমা জোট ভেঙে যেতে পারে। তিনি আরও বলেন, যে দেশগুলোকে লক্ষ্য করা হয়েছে, তাদের কর্মকর্তারা সম্ভবত এই হুমকির অদ্ভুত প্রকৃতি দেখে হতবাক হয়েছেন। ইসলাম উল্লেখ করেন, "এটা বলাই যায় যে, এটি সবকিছুকে ছাড়িয়ে গেছে এবং আমাদেরকে বাস্তবতাবিবর্জিত এবং সম্পূর্ণ বিপজ্জনক এক ভূখণ্ডে নিয়ে গেছে।"
কোনো মিত্র দেশ থেকে আমেরিকার ভূমি অধিগ্রহণের ধারণা অত্যন্ত অসম্ভব বলে মনে করা হয়। এই ধরনের প্রস্তাবের জন্য কংগ্রেস এবং তার নিজের প্রশাসন সহ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে ট্রাম্পের সমর্থনের মাত্রা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এই ঘটনাটি গত এক বছরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পক্ষ থেকে আসা বেশ কয়েকটি অস্বাভাবিক অর্থনৈতিক হুমকির ধারাবাহিকতার অংশ। কথিত বাণিজ্য ক্ষতির নির্দিষ্ট বিবরণ তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট নয়, তবে এই ধরনের হুমকির প্রভাবে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
গ্রিনল্যান্ড এবং ডেনমার্ক, উভয়ের সঙ্গেই আমেরিকার দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। গ্রিনল্যান্ডকে অধিগ্রহণ করার চেষ্টা আমেরিকার জন্য নতুন কিছু নয়; অতীতেও অনুরূপ প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু এই ঘটনাটি উল্লেখযোগ্য, কারণ এখানে অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে।
এই পরিস্থিতির বর্তমান অবস্থা এখনও অনিশ্চিত। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কর্মকর্তারা হুমকির বৈধতা এবং এর প্রভাব মূল্যায়ন করছেন বলে জানা গেছে। কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে এই ঘটনার কারণে সৃষ্ট উদ্বেগের সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে আরও অগ্রগতি প্রত্যাশা করা যায়।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment