ভেনিজুয়েলার উপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের অভিপ্রায় যুক্তরাষ্ট্র জানানোর পর থেকে, ট্রাম্প প্রশাসন অন্যান্য দেশের ক্ষেত্রেও একই ধরনের হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছে, যেখানে গ্রিনল্যান্ড একটি বিশেষ মনোযোগের বিষয়। গ্রিনল্যান্ড একটি ন্যাটো সদস্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের অংশীদার। এর ফলে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা এবং কংগ্রেসের ক্ষমতা প্রয়োগের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এই পদক্ষেপগুলো, মূলত একতরফা নির্বাহী সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হওয়ায় ক্যাপিটল হিল থেকে প্রতিক্রিয়া এসেছে, যেখানে কিছু রিপাবলিকান উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
সিএনএন-এর সিনিয়র রিপোর্টার অ্যানি গ্রায়ার "টুডে, এক্সপ্লেইনড" পডকাস্টে কংগ্রেসের প্রতিক্রিয়া এবং রিপাবলিকান দলের মধ্যে বিভাজন নিয়ে আলোচনা করেছেন। আলোচনায় কংগ্রেসের রাষ্ট্রপতি ক্ষমতা সীমিত করার ক্ষেত্রে যেসব চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তা তুলে ধরা হয়েছে, বিশেষ করে যখন নির্বাহী পদক্ষেপের জন্য আইনসভার অনুমোদনের প্রয়োজন হয় না।
গ্রিনল্যান্ডে ট্রাম্প প্রশাসনের আগ্রহ নতুন নয়। কয়েক বছর আগে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ডেনমার্কের কাছ থেকে অঞ্চলটি কেনার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখেছিলেন বলে জানা যায়, যা বিতর্ক সৃষ্টি করে এবং কূটনৈতিক সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তবে গ্রিনল্যান্ডের উপর সাম্প্রতিক মনোযোগ একটি সাধারণ অধিগ্রহণের বাইরে সম্ভাব্য হস্তক্ষেপের সাথে জড়িত, যা আইনপ্রণেতাদের কাছ থেকে ক্রমবর্ধমান সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
ঐতিহ্যগতভাবে কিছু রিপাবলিকান শক্তিশালী নির্বাহী বিভাগকে সমর্থন করলেও, গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্বের উপর সম্ভাব্য বাড়াবাড়ি অস্বস্তি সৃষ্টি করেছে। এই উদ্বেগের কারণ হল আন্তর্জাতিক সম্পর্কের উপর এর প্রভাব, ভবিষ্যতের প্রশাসনের জন্য এটি যে নজির স্থাপন করবে, এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের সম্ভাবনা।
ইতিমধ্যে প্রতিবাদ শুরু হয়েছে। ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখে, "গ্রিনল্যান্ড গ্রিনল্যান্ডবাসীর" এই ব্যানার নিয়ে বিক্ষোভকারীরা ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের বাইরে গ্রিনল্যান্ডের পতাকা হাতে জড়ো হয়েছিল, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক বিরোধিতার ইঙ্গিত দেয়।
প্রেসিডেন্টকে সংযত করার জন্য কংগ্রেসের হাতে থাকা বিকল্পগুলি সীমিত, তবে এর মধ্যে গ্রিনল্যান্ড সম্পর্কিত নির্দিষ্ট পদক্ষেপের জন্য তহবিল সীমিত করার জন্য আইনি ব্যবস্থা, অসন্তোষ প্রকাশ করে প্রস্তাবনা গ্রহণ, এবং চরম ক্ষেত্রে অভিশংসন প্রক্রিয়া অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে, এই পদক্ষেপগুলির সাফল্য দ্বিদলীয় সমর্থনের উপর নির্ভর করে, যা বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অনিশ্চিত।
কংগ্রেস সক্রিয়ভাবে তার ভূমিকা এবং সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক করছে, তাই পরিস্থিতি এখনও পরিবর্তনশীল। আইনপ্রণেতারা তাদের বিকল্পগুলি বিবেচনা করার সাথে সাথে প্রশাসনের পদক্ষেপের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাবগুলিও বিবেচনা করছেন, তাই আগামী সপ্তাহগুলি গুরুত্বপূর্ণ বলে আশা করা হচ্ছে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment