ভেরোনিকার যন্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি বহু বছর ধরে পর্যবেক্ষণের পর প্রাণী বুদ্ধিমত্তা বিশেষজ্ঞদের নজরে আসে। ভিয়েনার ভেটেরিনারি মেডিসিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ডঃ আন্তোনিও ওসুনা-মাসকারোর মতে, ভেরোনিকা তার পিঠ বা অন্যান্য কঠিন জায়গায় জোরে আঁচড় কাটার জন্য ঝাড়ুর ব্রিসল (bristle) প্রান্তটি ব্যবহার করত। অন্যদিকে, সংবেদনশীল পেটের নিচের অংশে হালকা স্পর্শের জন্য মসৃণ হাতলের দিকটি ব্যবহার করত। ডঃ ওসুনা-মাসকারো বলেন, "আমরা গরুদের এমনটা করতে সক্ষম হওয়ার আশা করিনি," যা আবিষ্কারের অপ্রত্যাশিত প্রকৃতিকে তুলে ধরে।
যন্ত্র ব্যবহার প্রাণীজগতে তুলনামূলকভাবে একটি বিরল আচরণ, যা প্রায়শই উচ্চতর বুদ্ধিমত্তা এবং সমস্যা সমাধানের দক্ষতার সাথে সম্পর্কিত। গবাদি পশুর মধ্যে এর পর্যবেক্ষণ তাদের জ্ঞানীয় ক্ষমতা সম্পর্কে বিদ্যমান অনুমানকে চ্যালেঞ্জ করে। যদিও প্রাইমেট, পাখি এবং কিছু সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণীর মধ্যে যন্ত্র ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে, তবে গবাদি পশুর মধ্যে এটিই প্রথম নথিভুক্ত উদাহরণ। এই আবিষ্কারটি আমরা কীভাবে এই প্রাণীদের বুঝি এবং তাদের সাথে যোগাযোগ করি, তার পুনর্মূল্যায়ন করতে পারে।
এই আবিষ্কারটি গবাদি পশু এবং অন্যান্য খামারের প্রাণীদের মধ্যে অন্যান্য অলিখিত জ্ঞানীয় ক্ষমতার সম্ভাবনা সম্পর্কে প্রশ্ন তোলে। অন্যান্য গরুরাও একই ধরনের যন্ত্র ব্যবহারের আচরণ প্রদর্শন করে কিনা এবং এই ধরনের জটিল ক্রিয়াগুলোকে সক্ষম করে তোলে এমন অন্তর্নিহিত নিউরাল (neural) প্রক্রিয়াগুলো অন্বেষণ করার জন্য আরও গবেষণা করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়াগুলো বোঝা বুদ্ধিমত্তার বিবর্তন এবং পশু পালন পদ্ধতিতে জ্ঞানীয় সমৃদ্ধির সম্ভাবনা সম্পর্কে অন্তর্দৃষ্টি দিতে পারে। গবেষকরা আরও জানতে আগ্রহী যে ভেরোনিকা এই আচরণটি স্বাধীনভাবে শিখেছে নাকি অন্য প্রাণী বা মানুষের কাছ থেকে সামাজিক শিক্ষার মাধ্যমে শিখেছে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment