একটি ফাঁস হওয়া ইমেলের মাধ্যমে জানা যায় যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ব্যুরো অফ আফ্রিকান অ্যাফেয়ার্সের নতুন প্রধান নিক চেকার, কর্মীদেরকে আফ্রিকার দেশগুলোতে আমেরিকার সহায়তার ক্ষেত্রে দেশটির উদারতার উপর জোর দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছেন, এমনকি যখন সহায়তার বাজেট কমতির সম্মুখীন। জানুয়ারিতে পাঠানো এবং দ্য গার্ডিয়ান কর্তৃক প্রাপ্ত ইমেলটিতে মার্কিন কূটনীতিকদেরকে আমেরিকান জনগণের করা উল্লেখযোগ্য অবদান সম্পর্কে আফ্রিকান সরকারগুলোকে সক্রিয়ভাবে স্মরণ করিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চেকারের ইমেলের বক্তব্য ছিল, "এইচআইভি/এইডস নিয়ন্ত্রণ বা দুর্ভিক্ষ কমাতে আমেরিকান জনগণের উদারতার কথা এই দেশগুলোকে মনে করিয়ে দেওয়া বেমানান নয়। বরং, এটি সেই মিথ্যাNarrative-এর মোকাবিলা করার জন্য অপরিহার্য যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অনেক ক্ষেত্রে বৃহত্তম দাতা নয় এবং এটি নিশ্চিত করা যে আমরা আমাদের স্বার্থকে আরও কার্যকরভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে সেই সহায়তা ব্যবহার করতে পারি।" চেকার, যিনি পূর্বে সিআইএ-তে এক দশকের বেশি সময় ধরে কাজ করেছেন, এই মাসের শুরুতে ব্যুরোর নেতৃত্ব গ্রহণ করেন।
এই নির্দেশনা এমন এক সময়ে এসেছে যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক সাহায্য ক্রমবর্ধমান যাচাই-বাছাইয়ের অধীনে এবং সম্ভাব্য হ্রাসের সম্মুখীন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অবদান তুলে ধরাকে এই কাটছাঁট সত্ত্বেও অঞ্চলে প্রভাব এবং সুবিধা বজায় রাখার প্রচেষ্টা হিসাবে দেখা যেতে পারে। ইমেলটি মার্কিন সহায়তার মূল্য জানানোর ক্ষেত্রে আরও দৃঢ় পদক্ষেপের পরামর্শ দেয়।
পররাষ্ট্র দফতর এখনও পর্যন্ত ফাঁস হওয়া ইমেল সম্পর্কে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। তবে, এই নির্দেশিকাটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র নীতিতে মানবিক সাহায্য এবং কৌশলগত স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য নিয়ে প্রশ্ন তোলে। কিছু সমালোচক যুক্তি দেখান যে সাহায্যকে প্রাথমিকভাবে মার্কিন স্বার্থকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার হাতিয়ার হিসাবে তৈরি করা হলে তা এই ধরনের কর্মসূচির প্রকৃত মানবিক প্রভাবকে দুর্বল করতে পারে। অন্যরা মনে করেন যে বৈদেশিক সহায়তায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ থেকে সর্বাধিক সুবিধা চাওয়া যুক্তিসঙ্গত।
এই বার্তা দেওয়ার ধরনে পরিবর্তনের ফলস্বরূপ কী দাঁড়ায়, তা এখনও দেখার বিষয়। এটা সম্ভব যে আফ্রিকান সরকারগুলো এই পদক্ষেপকে অব্যাহত সহযোগিতা এবং সমর্থন নিশ্চিত করার একটি স্বচ্ছ প্রচেষ্টা হিসাবে দেখবে। তবে, এটিকে একটি লেনদেনমূলক দৃষ্টিভঙ্গি হিসাবেও দেখা যেতে পারে যা মার্কিন সহায়তার অনুভূত পরার্থপরতাকে হ্রাস করে। এই কৌশলটির কার্যকারিতা সম্ভবত নির্ভর করবে মার্কিন কূটনীতিকরা কীভাবে এই নির্দেশনা কার্যকর করেন এবং আফ্রিকান সরকারগুলো নতুন বার্তার প্রতি কীভাবে সাড়া দেয় তার উপর।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment