পেরুর রাষ্ট্রপতি হোসে খেরি চীনা ব্যবসায়ী ইয়াং ঝিহুয়ার সাথে গোপন বৈঠকে অংশ নেওয়ার ভিডিও প্রকাশের পর অভিশংসনের মুখোমুখি হতে পারেন। এই মাসের শুরুতে ফাঁস হওয়া ভিডিওগুলোতে খেরিকে ২৬শে ডিসেম্বর ইয়াংয়ের মালিকানাধীন শিন ইয়ান রেস্তোরাঁয় আসতে দেখা যায়। প্রতিবেদন অনুসারে, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের একটি গাড়ি তাকে নামিয়ে দেয় এবং তিনি ভেতরে ঢোকার সময় মুখ লুকানোর চেষ্টা করেন।
এক সপ্তাহ পরে দ্বিতীয় একটি ভিডিওতে খেরিকে লিমায় ইয়াংয়ের একটি দোকানে দেখা যায়, যেখানে তিনি ইয়াংয়ের সামনে ফোনে চিৎকার করছিলেন বলে জানা যায়। ইয়াংয়ের ব্যবসায়িক লেনদেন নিয়ে বিতর্কের কারণে এই বৈঠকগুলো উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে যে ইয়াংয়ের একটি দোকান পৌর অধ্যাদেশ লঙ্ঘনের জন্য বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তিন দিন পরে একটি ফেডারেল নিয়ন্ত্রক সংস্থা সেই অধ্যাদেশ বাতিল করে দেয়।
খেরির বিরুদ্ধে অভিযোগগুলোর মধ্যে সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত এবং ক্ষমতার অপব্যবহার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিরোধী দলগুলো বৈঠকের প্রকৃতি এবং খেরি ইয়াংয়ের পক্ষে হস্তক্ষেপ করেছিলেন কিনা, তা নিয়ে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে। কংগ্রেস সদস্য রিকার্ডো টোরেস এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, "এই ভিডিওগুলো রাষ্ট্রপতির আচরণ এবং মি. ইয়াংয়ের সাথে তার সম্পর্ক নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। জনগণের সত্য জানা উচিত।"
রাষ্ট্রপতি খেরির কার্যালয় বৈঠকগুলো স্বীকার করেছে, তবে দাবি করেছে যে সেগুলো নিতান্তই কাকতালীয় ছিল এবং এতে সরকারি কাজকর্ম নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। রাষ্ট্রপতির একজন মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেছেন, "রাষ্ট্রপতি মাঝে মাঝে লিমার স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে গিয়ে সম্প্রদায়ের উদ্বেগের কথা জানার চেষ্টা করেন। এই পরিদর্শনগুলো কোনো বিশেষ সম্পর্ক বা পক্ষপাতিত্বের পরিচায়ক নয়।"
পেরু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক অস্থিরতার সম্মুখীন হয়েছে। খেরি তার পূর্বসূরি অভিশংসিত হওয়ার পর অক্টোবরে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। গত দশ বছরে দেশটিতে সাতজন রাষ্ট্রপতি হয়েছেন, যাদের কেউই তিন বছরের বেশি সময় ধরে দায়িত্ব পালন করেননি।
পেরুর কংগ্রেস বর্তমানে আনুষ্ঠানিক অভিশংসন তদন্ত শুরু করা হবে কিনা, তা নিয়ে বিতর্ক করছে। এই সিদ্ধান্তের জন্য সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট প্রয়োজন। যদি এটি অনুমোদিত হয়, তবে তদন্তটি বৈঠকের আশেপাশের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখবে এবং খেরির পদক্ষেপ অভিশংসনের ভিত্তি গঠন করে কিনা, তা নির্ধারণ করবে। পরিস্থিতি এখনও পরিবর্তনশীল এবং সম্ভাব্য ফলাফল অনিশ্চিত।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment