২০০১ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ন্যাটো জোটের আর্টিকেল ৫ জারির পর বহু দেশের হাজার হাজার সামরিক ও বেসামরিক সদস্য আফগানিস্তানে যায়। ৯/১১ হামলার প্রেক্ষিতে এই আর্টিকেল জারি করা হয়। ন্যাটো জোটের ৭৭ বছরের ইতিহাসে পারস্পরিক প্রতিরক্ষার এই ধারাটি শুধু একবারই ব্যবহৃত হয়েছিল। এই ধারায় বলা হয়েছে, জোটের কোনো একটি সদস্য আক্রান্ত হলে তা সব সদস্যের ওপর হামলা হিসেবে গণ্য হবে।
বিবিসি’র নিরাপত্তা বিষয়ক সংবাদদাতা ফ্রাঙ্ক গার্ডনারের মতে, এই সেনা মোতায়েনে রকেট হামলা, আইইডি এবং ভূমি থেকে আকাশে উৎক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের মতো বড় ঝুঁকি ছিল। গার্ডনার উল্লেখ করেন, আল-কায়দার হামলার পরে যুক্তরাষ্ট্রের আহ্বানে সাড়া দিয়ে কয়েক ডজন দেশের নাগরিক আফগানিস্তানে গিয়েছিল। তালেবান আল-কায়দাকে আশ্রয় দিচ্ছিল।
প্রাথমিক পর্যায়ে কান্দাহার, কাবুল এবং ক্যাম্প বাস্টিয়নের মতো জায়গায় যেতে বিপজ্জনক পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। আরএএফ জেট বা সি-১৩০ পরিবহন বিমানে করে যাওয়ার সময় তালেবানের ক্ষেপণাস্ত্র থেকে বাঁচতে নানা কৌশল অবলম্বন করতে হতো। এতে জাতীয়তা নির্বিশেষে সকল সদস্যের ঝুঁকির বিষয়টি ফুটে ওঠে। এছাড়া ক্যান্টিনে লম্বা লাইনও মোতায়েন হওয়া সৈন্যদের কাছে একটি স্পষ্ট স্মৃতি।
আফগানিস্তানে আন্তর্জাতিক বাহিনীর অংশগ্রহণের উদ্দেশ্য ছিল আল-কায়দাকে দমন করা এবং ৯/১১ হামলার পর দেশটিকে স্থিতিশীল করা। বিদেশি সৈন্য ও বেসামরিক নাগরিকদের উপস্থিতি সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা এবং আফগান সরকারকে সমর্থন করার ক্ষেত্রে একটি বহুজাতিক অঙ্গীকারের প্রতিনিধিত্ব করে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment