সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতে, রাশিয়া, ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের আলোচকরা আবুধাবিতে ত্রিপক্ষীয় আলোচনার জন্য মিলিত হয়েছেন। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণ-মাত্রার আগ্রাসনের পর এটিই প্রথম এ ধরনের বৈঠক। তিন দেশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এতে অংশ নিয়েছেন, যদিও তারা একই কক্ষে বসবেন কিনা তা এখনও স্পষ্ট নয়।
আলোচনাটি চলমান সংঘাতের একটি সমাধান খোঁজার প্রচেষ্টায় একটি নতুন আঙ্গিক, তবে দলগুলোর মধ্যে মৌলিক মতানৈক্য এখনও বিদ্যমান। বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, তবে একটি সাফল্যের প্রত্যাশা সীমিত।
ইউক্রেন শান্তি প্রতিষ্ঠার দৃঢ় আকাঙ্ক্ষা নিয়ে এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিচ্ছে, ইউক্রেনীয় প্রতিনিধি দলের সাথে পরিচিত সূত্র থেকে এমনটা জানা যায়। তবে, কিয়েভের জন্য মার্কিন সমর্থন ধরে রাখাও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, বিশেষ করে গত বছর সাহায্য পেতে অসুবিধা হওয়ার পরে।
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনে একটি শান্তি চুক্তির পক্ষে কথা বলছেন, যা তিনি প্রতিশ্রুতি দিলেও এখনও পূরণ করেননি। সম্প্রতি তিনি বলেছেন যে দুই পক্ষের মধ্যে চুক্তি করতে ব্যর্থ হওয়া "বোকা" হবে। ট্রাম্পের দূতেরা এই আলোচনার আগে তীব্র কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়েছেন, তবে গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলো এখনও অমীমাংসিত রয়ে গেছে।
ইউক্রেনের সংঘাতের সুদূরপ্রসারী বৈশ্বিক প্রভাব রয়েছে, যা জ্বালানি বাজার, খাদ্য নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে প্রভাবিত করেছে। এই যুদ্ধ একটি বড় ধরনের মানবিক সংকটও তৈরি করেছে, যেখানে লক্ষ লক্ষ ইউক্রেনীয় তাদের বাড়িঘর থেকে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং ইউক্রেনকে আর্থিক ও সামরিক সহায়তা দিয়ে সাড়া দিয়েছে।
বর্তমান আলোচনা এমন একটি ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যেখানে গ্লোবাল সাউথের কিছু দেশ সংঘাতের পশ্চিমা-নেতৃত্বাধীন প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে আপত্তি প্রকাশ করেছে। এই দেশগুলো প্রায়শই একটি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেয় যা জড়িত সকল পক্ষের নিরাপত্তা উদ্বেগকে বিবেচনা করে।
আবুধাবিতে আলোচনার ফলাফল অনিশ্চিত, তবে এটি সংলাপ এবং উত্তেজনা কমানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। পরবর্তী পদক্ষেপগুলো সব পক্ষের আপস করার এবং একটি সাধারণ ক্ষেত্র খুঁজে বের করার ইচ্ছার ওপর নির্ভর করবে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment