বিজ্ঞান সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি গবেষণা অনুসারে, একটি অস্ট্রীয় গরুকে সরঞ্জাম ব্যবহার করতে দেখা গেছে, যা গবাদি পশুর মধ্যে এই ধরনের আচরণের প্রথম নথিভুক্ত উদাহরণ। গবেষকরা দেখেছেন যে গরুটি বেড়ার খুঁটি ব্যবহার করে এমন একটি চুলকানি চুলকাচ্ছে যেখানে তার নাগাল নেই, যা বোভাইন প্রজাতির মধ্যে আগে নিশ্চিত না হওয়া সমস্যা সমাধানের একটি স্তর প্রদর্শন করে।
এই পর্যবেক্ষণটি গবাদি পশুর জ্ঞানীয় ক্ষমতা সম্পর্কে আগের অনুমানগুলোকে চ্যালেঞ্জ করে। ভিয়েনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণী আচরণ বিভাগের অধ্যাপক এবং গবেষণার প্রধান লেখক ডঃ মারিয়ানে শ্মিট বলেন, "এই আবিষ্কারটি আমাদেরকে এই প্রাণীগুলোর বুদ্ধিমত্তা এবং আচরণগত নমনীয়তা পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করে।" গরুটি যা করেছে, তা কার্যকারণের একটি ধারণা বোঝার ক্ষমতা প্রকাশ করে, যা প্রায়শই উচ্চ-স্তরের বুদ্ধিমত্তার সাথে সম্পর্কিত।
অন্য একটি খবরে, নেচারে প্রকাশিত একটি গবেষণা থেকে জানা গেছে যে শিশুদের নার্সারিতে পাঠানো তাদের অন্ত্রের মাইক্রোবায়োমকে উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তন করে। গবেষণাটি বিভিন্ন চাইল্ড কেয়ার সেটিংসে শিশুদের মাইক্রোবায়োম বিকাশের উপর নজর রাখে এবং দেখে যে যারা নার্সারিতে যায় তাদের অন্ত্রের ফ্লোরা বাড়িতে যত্ন নেওয়া শিশুদের তুলনায় কম বৈচিত্র্যপূর্ণ। এই পার্থক্যটি অন্যান্য শিশু এবং ভাগ করা পরিবেশের সংস্পর্শে আসার কারণে ঘটে, যা জীবাণু সংক্রমণকে সহজ করে।
ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের মাইক্রোবায়োলজিস্ট এবং মাইক্রোবায়োম গবেষণার প্রধান লেখক ডঃ এমিলি কার্টার ব্যাখ্যা করেছেন, "নার্সারি পরিবেশ জীবাণু বিনিময়ের কেন্দ্র হিসাবে কাজ করে।" "এটি উপকারী জীবাণুর দ্রুত বিস্তার ঘটাতে পারলেও, সম্ভাব্য ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়ার সংস্পর্শে আসার ঝুঁকিও বাড়িয়ে তোলে।"
অন্ত্রের মাইক্রোবায়োম শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বিকাশ এবং সামগ্রিক সুস্থতাকে প্রভাবিত করে। কম বৈচিত্র্যপূর্ণ মাইক্রোবায়োম পরবর্তী জীবনে অ্যালার্জি এবং অটোইমিউন রোগের সংবেদনশীলতা বৃদ্ধির সাথে যুক্ত। গবেষকরা এখন টার্গেটেড প্রোবায়োটিক হস্তক্ষেপ এবং স্বাস্থ্যবিধি অনুশীলনের মাধ্যমে শিশুদের অন্ত্রের স্বাস্থ্যের উপর নার্সারিতে যাওয়ার সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাবগুলো প্রশমিত করার কৌশলগুলো অনুসন্ধান করছেন।
এই ফলাফলগুলো পরিবেশ, আচরণ এবং মাইক্রোবিয়াল ইকোসিস্টেমের মধ্যে জটিল সম্পর্ককে তুলে ধরে। প্রাণীজগতের জ্ঞান এবং মানুষের স্বাস্থ্য উভয়ের জন্য এই আবিষ্কারগুলোর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব সম্পূর্ণরূপে বোঝার জন্য আরও গবেষণা প্রয়োজন।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment